হোম » প্রধান সংবাদ » শ্রীপুরে ব্রিজের অভাবে ভোগান্তিতে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ

শ্রীপুরে ব্রিজের অভাবে ভোগান্তিতে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ

আব্দুর রউফ রুবেল শ্রীপুর,গাজীপুরঃ  দুই পাশেই পাকা রাস্তা কিন্তু মাঝখানে সামান্য একটি সেতুর জন্য দূর্ভোগে পড়েছে তিন গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। চারদিকে যখন উন্নয়ন আর উন্নত সভ্যতার ছোঁয়া তখন এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার  প্রতিবন্ধকতায় প্রতিনিয়ত  বাড়ছে জন ভোগান্তি। দুর্ভোগে পড়ছে আবাল-ব্দ্ধ,বনিতা।প্রতিনিয়ত ছোট বড় দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে চলমান মানুষগুলো।
সব থেকে বেশি দূর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিশু এবং স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক লোক,  গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ মানুষেরা।   এমনি দূর্ভোগের চিত্র দেখা যায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার পার্শ্ববর্তী  গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে। এই গ্রামের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পিচ ঢালাই রাস্তা। চারদিকে সবুজের সমারোহ।রাস্তাটি গিয়ে শেষ হয়েছে একটি খালের কাছে।যে খালটি সেরার খাল নামে পরিচিত।   কিন্তু একটি মাত্র সেতুর অভাবে সেখানের কর্মচাঞ্চল্য যেন থমকে আছে  । তিন গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা দুটি গজারি গাছ দিয়ে নির্মিত সাঁকো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,খালের দুই পাশে  পিচ ঢালা দুটি পাকা সড়ক থাকলেও হেরা পটকা(ছিট পাড়া) এলাকায় একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে সড়কগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা । বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই খালে পানির প্রবাহ থাকায়, দুটি গজারি গাছ দিয়ে নির্মিত সাঁকোই তিন গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ।
কয়েক বছর আগে জনৈক গোলাম মোস্তফার উদ্যোগে  এলাকাবাসীরা সহায়তায়  এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সাঁকোটির এক পাশে পটকা, বাউনী এবং অন্য পাশে কর্নপুর( ছিট পাড়া)।সেতুটির অভাবে প্রতিনিয়তই তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা।
স্থানীয় পটকা এলাকার গোলাম মোস্তফা জানান,কয়েক বছর আগে এক বিট অফিসার কে বলে দুটি গজারী গাছ সংগ্রহ করে এলাকাবাসীর সহায়তায় খালের  ওপর এই সাঁকোটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এই সাঁকোটিও নড়বড়ে হয়ে গেছে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় কুনো দূর্ঘটনা।তিনি সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের কাছে এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন জানান।
স্থানীয় পটকা সিনিয়র মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর  ছাত্র আব্দুল আলিম  জানায়, সেতুটি নড়বড়ে হওয়ার কারণে তারা অনেক সময় মাদ্রাসায় যেতে পারেনা । আর একটু বৃষ্টি হলেই সেতুটি পিচ্ছিল হয়ে যায় ফলে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা।                    হেরা পটকা এলাকার মোঃ আবুল হাশেম জানান, এই খালে বেশিরভাগ  সময় পানি এবং স্রোত  থাকে ফলে   গ্রামের মানুষকে এই গাছের সাঁকো দিয়েই খাল পার হতে হয়। কিন্তু সাঁকোতে উঠলে সাঁকোও কাপে শরীরও কাঁপে।বেশ কিছুদিন আগে একজন এখান থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিল তাই  এখানে একটি ব্রিজ হলে এলাকার মানুষ গুলোর ভোগান্তি লাগব হবে।
গোসিংগা সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত  সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান,  এই ব্রিজটির অভাবে গ্রামের মানুষ, কোমলমতি শিক্ষাথ্রীদের আসা যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এই মাদ্রাসায় পড়ুয়া অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। যা শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তিনি অতি দ্রুত এই ব্রিজটি স্থাপনের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।  গোসিংগা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য হুমায়ুন কবির জানান, এই স্থানে ব্রিজটি অনেক জরুরি। বর্ষাকালে এখান দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী সহ সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক কষ্ট হয়।তবে কিছুদিন আগে গাজীপুর প্রকল্প নামের একটি উন্নয়ন প্রকল্পে উপজেলা পরিষদের প্যাডে আবেদন করা হয়েছে।
 গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  শাহজাহান সরকার জানান, অল্প কিছুদিন হলো আমি দায়িত্ব  নিয়েছি তবে এ সপ্তাহের মধ্যেই আমি ব্রিজটি দেখে ব্যবস্থা কি নেওয়া যায় সে চেষ্টা করবো। উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি ও উপজেলা  চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রধান জানান,কয়েক মাস হলো আমি উপজেলার দায়িত্ব নিয়েছি তবে  খুব শীঘ্রয়ই এই খালের উপর একটি  ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!