হোম » প্রধান সংবাদ » রায়েন্দা শহর রক্ষাবাঁধ নির্মানে শঙ্কা,উন্নয়নমূলক কাজে বাধাগ্রস্ত করতে মামলা

রায়েন্দা শহর রক্ষাবাঁধ নির্মানে শঙ্কা,উন্নয়নমূলক কাজে বাধাগ্রস্ত করতে মামলা

নাজমুল ইসলাম সবুজ: বাগেরহাটের শরণখোলায় উচ্চ আদালতে একর পর এক মামলা দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজে বাঁধার সৃষ্টি করছেন এক স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি। শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আঃ করিম হাওলাদারের পুত্র রেজাউল করিম রেজা দীপ্তবাংলা হিউম্যান রাইটস নামের নাম সর্বস্ব একটি মানবাধিকার সংগঠনের চেয়ারম্যান পরিচয়ে তিনি এ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে রায়েন্দা শহর রক্ষাবাঁধ নির্মানে অনিশ্চয়তা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারের প্রায় দুই হাজার দোকান, উপজেলা খাদ্য গুদাম, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস, পোষ্ট অফিস, পাউবো অফিস, সরকারী ডাকবাংলো, আটটি তফসিলি ব্যাংক, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সৃতিসৌধ, দুইটি মাধ্যমিক ও দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মসজিদ ও একটি মন্দিরসহ সরকারি-বেসরকারী অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধের বাইরে রয়েছে। যার ফলে ঘুর্নিঝড় সিডরের আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রায়েন্দা বাজারটি। সে কারনে সিডরের পর থেকে এলাকাবাসী আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাউবো’র ৩৫/১ পোল্ডারটিতে টেকসই বেড়িবাঁধ ও রায়েন্দা শহর রক্ষাবাঁধ নির্মানের দাবী জানান। ওই দাবীর প্রেক্ষিতে বিশ্ব ব্যংকের আর্থিক সহযোগীতায় তিনশত কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহন করে সরকার। চীনের একটি ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারী কাজ শুরু করে এপর্যন্ত প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, শহর রক্ষাবাঁধের কাজ শুরুর কালে রেজাউল করিম রেজা খাল রক্ষার নাম করে হাই কোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠন হয়রানির ভয়ে কাজ স্থগিত রাখেন। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।এব্যাপারে রায়েন্দা বাজার ব্যবস্থাপানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন ও শহররক্ষা বাঁধ নির্মান আন্দোলন কমিটির আহবায়ক এম এ রশিদ জানান, সিডরে রায়েন্দা বাজারের ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে সব চাইতে বেশী। অনেকে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। তাই এখনো ঘুর্নিঝড়ের সংকেত দিলে ব্যবসীয়ীদের ঘুম বন্ধ হয়ে যায়। শহর রক্ষা বাঁধ করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
গত ৫ অক্টোবর সিইআইপির একটি প্রতিনিধি দল শহর রক্ষাবাঁধ নিমার্নের জন্য রায়েন্দা ডাক বাংলায় জন প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন। প্রতিনিধি দলের প্রধান উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) ডেপুটি টিম লিডার মোঃ হাবিবুর রহমান, মামলার কারনে বাঁধ নির্মানের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে জানান। এসময় এলাকাবাসী বাঁেধর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তাদের সকল প্রকার সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন আকন জানান, রায়েন্দা বাজারের পূর্ব মাথায় একটি মরে যাওয়া সরকারি খালের দুই পাশে মুচি, ধোপা, নাপিতসহ দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। ওই জমি রেজাউল করিম রেজা নিজ নামে ইজারা নিতে না পেরে খাল রক্ষার নামে হাই কোর্টে আরেকটি হয়নানি মূলক রিট মামলা দায়ের করেন। এতে উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপশি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, সরকার ভুমিহীনদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সোনাতলা গ্রামে একটি প্রকল্প গ্রহন করে প্রাথমিক ভাবে ১৫০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়। এর আগে ওই জমি নিজ নামে বরাদ্দ নেয়ার জন্য রেজাউল করিম রেজা দীপ্তবাংলা হিউম্যান রাইটস এর চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আদেন করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক ওই জমি বরাদ্দ না দেয়ায় তিনি প্রশাসনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হাই কোর্টে হয়রানি মূলক একটি মামলা করেন। এ কারনে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এম সাইফুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধ কমান্ডর এম এ খালেক, সমাজ সেবক আব্দুল হালিম খান জানান, পাউবো’র পরিত্যাক্ত জমি জেলা প্রসাশন পুনঃ অধিগ্রহন (রিজুম) করে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি মার্কেট ও শরণখোলা আইডিয়াল ইনিষ্টিটিউট নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। মার্কেটটিতে শতাধিক ব্যক্তি ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটিতে প্রায় পাঁচ শত শিক্ষার্থী আধুনিক শিক্ষা গ্রহন করছে। একই দাগের পাশের জমি দীপ্ত বাংলা হিউম্যন রাইডস’র চেয়ারম্যান পরিচয়ে রেজাউল করিম রেজা ইজারা চেয়ে পাউবো ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। ওই জমি ইজারা না পেয়ে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ নিয়ে হাই কোর্টে একটি হয়রানি মূলক রিট মামলা দায়ের করেন।
এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, প্রতিটি মামলায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। একটি মামলায় বাগেরহাটের সাবেক ডিসি, এডিসি ও ইউএনও হাইকোর্টে হাজিরা দিয়ে এসেছেন। এভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করলে উন্নয়নের প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যায়।জানতে চাইলে দিপ্ত বাংলা হিউম্যন রাইটস’র চ্যেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন, আমি কোন উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্ত করতে মামলা করি নাই। মুল খাল রক্ষা করে বাঁধ নির্মান করার জন্য মামলা করছি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!