
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ শহরে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সারা দিন ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রতিটি রাস্তাঘাটে হাঁটু পর্যন্ত পানি হয়েছে। ফলে ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে কাচা বাজারসহ অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া অধিকাংশ স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।
আবার শহরের এসএন রোডের অনেক দোকানে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় কেনা বেচা বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা দিয়ে রিকশা, ভ্যান, অটো, সিএনজি চলাচলের পরিমাণ ছিল খুব সীমিত।
এই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এই বৃষ্টিতে মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ভারী বর্ষণে শহরের এসএস রোড,সিরাজী রোড, মুজিব সড়ক, গোশালা সড়কসহ প্রায় সবগুলো সড়কে হাটু পানি জমে গেছে।
এ বিষয়ে ওষুধ কিনতে আসা শরিফ জানান, বৃষ্টির কারণে রিকশা,ভ্যান চালকরা তাদের ইচ্ছা মতো ভাড়া আদায় করছে। ১০ টাকার ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা নিচ্ছে।
রিকশা চালক খালেক জানান, আল্লাহর মর্জি কামাই ভালোই হইছে। শুধু শহরেই না পৌরসভাধীন প্রতিটি সড়কে জমেছে বৃষ্টির পানি। ফলে চলাচলে মানুষের চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একারনে রিক্সার চাপ অনেক বেশি।
এদিকে শহরে পানি জমার কারণে পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দায়ী করছে পৌরবাসি। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিরাজগঞ্জের সবগুলো মহাসড়কে দূরপাল্লা ও লোকাল গাড়ি ধীর গতিতে চলাচল করছে।
সিরাজগঞ্জের এস আই পরিবহণ কাউন্টারের লোকজন জানায়, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এদিন ভোর থেকে ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ বাস-কোচ যাত্রী শূন্য অবস্থায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এতে পরিবহণ মালিকদের চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পৌরকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি যাতে দ্রুত সরে যায় সেজন্য তারা নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের কারণে কখনো মুষলধারে আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আগামীকাল দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার