প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৫:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অ্যালবাট্টসের ম্যানেজার রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মাহমুদপুর মহল্লার (১৮) নামের এক গৃবহধুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নে অবস্থিত অ্যালবাট্রস সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম (৪৮) এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার দিয়ার বৈদ্যনাথ গ্রামের মৃত বদিউজ্জামান সরকার। সে প্রায় ১৫ বছর ধরে অ্যালবাট্রস সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছে বলে জানা যায়। মামলা সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলাসের স্ত্রী দীর্ঘদিন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে আব্দুল আলিম (সার্ভেয়ার) এর বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
এই সুযোগে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় যৌন কর্ম করার উদ্যেশে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু গৃহবধু চরিত্রহীন, লম্পটের কথায় কোন প্রকার সাড়া না দিলে সু-কৌশলে মোবাইল নম্বাম জোগার করে রফিকুল ইসলাম। তখন থেকেই বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে যৌন কর্ম করার কথা বলে।
এরই একপর্যায়ে চলতি বছরের গত (১৫ জুলাই) রাত ১০ দিকে তীব্র গরমের কারণে জানা খুলে ঘুমিয়ে পরে গৃহবধু। তার স্বামী মনিরুল ইসলাম শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় ছিলেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম গৃহবধুর বুকের ওপরে হাত দিয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গে হস্তচালনা করে। তাৎক্ষনিক গৃহবধু লম্পট রফিকুলের হাত জোরপূর্বক টানিয়ে ধরে চিৎকার শুরু করে।
এসময় আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রফিকুল ইসলামকে হাতে নাতে আটক করে। স্থানীয়দের কাছে রফিকুল ইসলাম ক্ষমা-প্রার্থনা করে। পরে স্থানীয়রা বিচারের দিন ধার্ঘ্য করে রফিকুল ইসলামকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু সঠিক বিচার না পেয়ে গত (২০ আগষ্ট) ২০২৩ ইং তারিখে ন্যায় বিচারের আশায় সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে গৃহবধুর স্বামী মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সিরাজগঞ্জ (পিবিআই) এর কাছে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার স্বাক্ষী জাহিদুল ইসলাম, শামিম সেখ ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযুক্ত অ্যালবাট্রস সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, চিৎকারের শব্দ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি রফিকুলের হাত জানালার ভিতর ধরে আছে গৃহবধু। বিষয়টি সঠিক। পরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের লোকজন এসে বিচারের আশ্বাস দিয়ে ম্যানেজারকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু গৃহবধু বিচার না পেয়ে আইনের আশ্রায় নিয়েছে।
তারা আরও বলেন, সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়েছে পড়েছে। এই চত্রিহীন, লম্পট রফিকুল এলাকার অনেক গৃহবধুকে নানা ভাবে কু-প্রস্তাব দিতো। কিন্তু লোক-লজ্জার ভয়ে কেউ মুখ খুলে নাই। তবে এই মামলা সঠিক ভাবে তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেছেন স্থানীয়রা।
মামলার তদন্তকারী পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মেহেদী হাসান বলেন, আদলতের আদেশ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অ্যালবাট্রস সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. লুৎফর রহমান দিলু বলেন, আমার কোম্পানীর ম্যানেজার হিসেবে রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়ে বিষয়টি এখন অবগত নয়। তবে এধরণের কাজে সঙ্গে আমার ম্যানেজার জরিত থাকলে তাকে ম্যানেজারের পদ থেকে বাদ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে রফিকুল ইসলামের সাথে পাম্পসহ কোন প্রকার সম্পর্ক থাকবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যাংকে আছি। আমার বিরুদ্ধে একটি মামা দায়ের হয়েছে। মামলায় যা হয় হবে। আপনারা মুসফিকুর রহমান লিপুর সাথে যোগাযোগ করেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.