প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ২:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
মহেশখালীতে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মা পথে পথে! সম্পত্তি ছেলে সন্তানদের ভাগ করে দেওয়া কাল হলো তার

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার: অনেক সন্তান বিয়ের পর অযত্নে অবহেলায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় বাবা মায়ের। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ০২নং ওয়ার্ডে। এদিকে মৃত: নজির আহমেদ ছেলে শফিউল আলমের ঘরে ঠাঁই হলো না ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মা- নুর জাহানের। সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার পর কোন ঘরেই ঠাঁই হলো না বৃদ্ধা মায়ের। এখন তিনি থাকনে গাছ তলায় ও মানুষের ঘরে।
জানাগেছে, জে.এম.ঘাট এলাকার নজির আহমদের সাথে নুর জাহানের বিবাহ হয়েছিল ৫০ বছর আগে তাদের ঘরে জন্ম হয় ৪টি সন্তান, তাদের মধ্যে ২টি মেয়ে ও ২টি ছেলে, একদম বড় ছিল শামশুর নাহার,ফরিদুল আলম,শফিউল আলম,সাবেকুন নাহার। নজির আহমদ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্ত্রী ও সন্তানের ডেকে নিজের থাকা জমি গুলো ভাগ বন্টন করে দেন। জমি গুলো বরাদ্দ হওয়ার কিছু দিন পর নজির আহমেদ ও তার ছেলে ফরিদুল আলম মৃত্যু বরণ করেন। মরে যাওয়ার আগে নজির আহমেদ তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের জন্য ৩০ কড়া জমি লিখিত ভাবে হস্তান্তর করেন।
এখন, শফিউল আলমের কু-নজর পড়ছে বাবার দেওয়া ৩০ কড়া জমির উপর তখন থেকে শুরু মায়ের প্রতি সন্তানের নানা মুখী নির্যাতন। মা - তো মা-ই মা- সব সহ্য করে যাচ্ছে কিছুদিন আগে মা-কে ঘর থেকে বাহির করে দেন তার বেঁচে থাকা একমাত্র পুত্র সন্তান, শফিউল আলম,বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর আর বাড়ির আশেপাশে যেতে দেয় না, শফিউল আলম। এখন, বৃদ্ধ (৭৫) নুর জাহান ঠাঁই হলো গাছ তলায় ও মানুষের বাড়ি বাড়ি, মানবেতর জীবনযাপন করতেছেন এবং মানুষের ধারে ধারে বিচার চেয়ে বেড়ান নুর জাহান (৭৫)।
কিন্তু এখনো স্থায়ী কোন স্থান হয়নি নুর জাহানের থাকার মতো'তিনি ফিরে যেতে চান তার স্বামীর দেওয়া ঘরে। ভুক্তভোগী নুর জাহান কাছে যখন জানতে চাই,তার ভরণপোষণ কে দেন,তখন (৭৫) বছরের বৃদ্ধ তিনি হাউমাউ করে কান্না করে দেন,তারপর তিনি বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই, রাত হলে স্বামীর দেওয়া ঘরে রাত কাটাতাম সেটা ও কেড়ে নিল আমার ছেলে শফিউল আলম (২৫) এখন আমার কাছে থাকার মতো আর কোন স্থান নাই। গাছ তলা আর মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফিরে দিন কাটাচ্ছি, আমার সন্তান থাকি ও যেন নাই।
নুর জাহান জানান, কিছুদিন আগে তিনি শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদে তার সন্তান শফিউল আলমের জন্য একটা বিচার দেন,সেখানে স্থানিয় চেয়ারম্যান এড.আবদুল খালেক চৌধুরী জমির কাগজ পত্র গুলো দেখে নজির আহমদের দেওয়া ৩০ কড়া জমির মধ্যে নুর জাহান কে ২৪ কড়া জমি রায় দেন।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রায় পেলেও জায়গা ম্যাপে দি তে যাদের কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো তারা জায়গা মাপতে নারাজ। শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের রায়ের কাগজপত্র ও নুর জাহানের কাছে আছে বলে জানান, এখন তার কাছে একমাত্র ভরসা প্রশাসন তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীকি মারমা বলেন, এ বিষয়ে অবগত না, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.