
রায়হান আলীঃ সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই আলোচনা বাড়ছে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন কে ঘিরে নানা প্রত্যাশা সাধারণ জনগণের। সিরাজগঞ্জ ৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে অনেক আগে থেকেই আঃলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নামলেও বিএনপি জামায়াতের কাউকে দেখা যায়নি। আওয়ামি লীগের প্রার্থীরা বর্তমান সরকারের মেঘা উন্নয়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে তাদের প্রচারণায় তুলে ধরছেন। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত কৃষি নির্ভর উল্লাপাড়ার এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪২০ জন এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৬ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৯ জন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ ৪ উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১২ জন। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উল্লাপাড়া নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার, ব্যানার সেটে দিয়ে নিজেদের কে প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত এইচ টি ইমাম পুত্র বর্তমান সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম। উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে রয়েছেন । তিনি এই আসনে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক পেয়ে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গ্রাম হবে শহর স্লোগান কে সামনে রেখে এই আট বছরে উল্লাপাড়ার স্কুল কলেজের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন,রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট,ওভারপাস নির্মাণে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন তানভীর ইমাম। আর এতে সাধারণ মানুষের কাছে যেমন তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে পাশাপাশি মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি । ইতোমধ্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম মানুষের কাছে তুলে ধরে নৌকার প্রচার- প্রচারণায় বিভিন্ন এলাকায় সভা, সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন তানভীর ইমান। তিনি এই আসনে আওয়ামি লীগের হয়ে আবারও মনোনয়ন চাইবেন।
২০১৪ সালের পর বিএনপি জামায়াতের সরকার বিরোধী আন্দোলন হরতাল নাশকতা, অগ্নিসংযোগ এগুলো কঠোরভাবে দমন করেছেন তানভীর ইমাম। এরপর থেকে উল্লাপাড়ায় বিএনপি জামায়াত কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নামে মামলা থাকায় এদের সভা সমাবেশ বা কোন প্রকার দলীয় কার্যক্রম চোখে পড়ে না।
উল্লপাড়ার বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম শফি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এরআগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির প্রার্থী এম আকবর আলী ও জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খাঁন কে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চেয়ে পাননি। শফিকুল ইসলাম শফি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অনেক আগে থেকেই উঠান বৈঠক নানাভাবে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য পঁলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জার কন্যা সেলিনা মির্জা মুক্তি। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা জাসদ ও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মুক্তি মির্জা তার বাবার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে মনোনয়ন পেতে সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক করছেন।
আব্দুল লতিফ মির্জার কন্যা সেলিনা মির্জা মুক্তি জানান তার বাবা আজীবন আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। উল্লাপাড়ায় তার জনপ্রিয়তা অসাধারণ তিনি তার বাবার উত্তরসূরী হিসেবে এবার আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে তিনি উল্লাপাড়া-সলঙ্গাবাসীর জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় নিজেকে নিবেদিত করবেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র এস এম নজরুল ইসলাম তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনিও এমপি পদে মনোনয়নের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে মাঠে নেমেছেন। পৌরসভার বাইরেও নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। মাঝেমধ্যে চলছে তার মোটরসাইকেল শোডাউন।
সিরাজগঞ্জ ৪:(উল্লাপাড়া)
আওয়ামি লীগ দলীয় অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহেদুল হক। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এরআগেও তিনি একাধিক বার মনোনয়ন চেয়ে পাননি কিন্তু দলীয় কর্মী হিসেবে হাল ছাড়েননি। সে বছরের পর বছর ধরে তিনি মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক জহুরুল ইসলাম মিল্টন। তিনি নিজেকে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জানান দিয়েছেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি মিল্টন ইতোমধ্যেই গোটা উপজেলায় পোস্টার সেটে দিয়েছেন।
উল্লাপাড়ার সলপ ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকাত ওসমান আওয়ামী লীগ থেকে এমপি মনোনয়ন চাইবেন। তিনি সলপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। মনোনয়ন পেতে শওকাত সভা,সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করেছেন।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় এসেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি ফজলে শামস পরশের স্ত্রী উল্লাপাড়ার মেয়ে এ্যাডঃ নাহিদা সুলতানা যুথি। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো যাদের কথা শোনা যাচ্ছে এরা হলেন উপজেলা আঃলীগের সদস্য নবী নেওয়াজ খাঁন বিনু,এ্যাডঃ আব্দুল আলিম জুয়েল । এছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইখতিয়ার চৌধুরী মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ পারছেন। আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ইয়াসিন আলী মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের জোটগতভাবেও নতুন মুখ আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে শীর্ষ পর্যায়ে। উল্লপাড়ায় বিএনপি জামায়াত থেকে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক ব্যক্তির নাম শোনা গেলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। দলীয় নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলা কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে তারা। ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম আকবর আলী। উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ,মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল এবং বড়হর স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এম আকবর আলী আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আবারও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এম. আকবর আলী বলেন,বিএনপি থেকে চলমান আন্দোলনে আমরা অংশগ্রহণ করছি। এখন পর্যন্ত বিএনপি থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিন্ধান্ত নেয়নি।
বিএনপির অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব,সদস্য সচিব আজাদ হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল আলম ও কে.এম শরফুদ্দিন মঞ্জু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান। এ ছাড়া জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এদের বাইরে ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মুফতি আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনসুরের নাম প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।