হোম » সারাদেশ » উখিয়ায় ১৫৫ জন পেয়েছেন নতুন ঘর : উপজেলা প্রশাসন উখিয়া কে ও ভুমিহীন মুক্ত ঘোষনা করলেন।

উখিয়ায় ১৫৫ জন পেয়েছেন নতুন ঘর : উপজেলা প্রশাসন উখিয়া কে ও ভুমিহীন মুক্ত ঘোষনা করলেন।

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার: মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভুমি ও গৃহহীন পরিবারকে ৪র্থ পর্যায়ে ১৫৫ জন হতদরিদ্র নিঃস্ব পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসন উখিয়া কে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত করেছেন।
আগামী ৯ আগস্ট জমি ও গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সোমবার (৭ আগষ্ট) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদের হলরুম অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ এই ঘোষণা দেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভূমি উখিয়া সালেহ আহমদ।
 প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে  উপস্থিত থেকে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য এবং উপকারী ভোগীদের জীবন মান উন্নয়ন ও সফলতার চিত্র তুলে ধরেন  ,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃআল মামুন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার পরিমল বড়ুয়া, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার, দপ্তর সম্পাদক শফিউল শাহীন, নির্বাহী সদস্য ফেরদৌস ওয়াহিদ,আব্দুল্লাহ আল আজিজ, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিক আজাদ, সদস্য ইমরান আল মাহমুদ, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি শরিফ আজাদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)  সালেহ আহমেদ বলেন, চতুর্থ পর্যায়ে জমি ও গৃহ প্রদানের মধ্য দিয়ে আগামী ৯ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উখিয়া উপজেলা গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা হতে যাচ্ছে। তবে পরবর্তী বিশেষ কোনো তথ্য পেলে বা অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে বন্দোবস্ত বাতিলের মাধ্যমে অন্যজনকে (বাড়ী পাওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি পাওয়া গেলে) যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। চতুর্থ পর্যায়ে হলদিয়া পালং ও রত্নাপালং ইউনিয়নের ১শ ৫৫ টি পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হবে।”
পরবর্তীতে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার ভূমিহীন হিসেবে জমি ও ঘর চাইলে তখন কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে প্রশ্নের জবাবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালেহ আহমেদ বলেন,” যদি এরকম কেউ গৃহহীন ও ভূমিহীন হিসেবে আবেদন করে তখন সেটি যাচাই-বাছাই করে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে সে যদি যোগ্য হয় তখন তাকে ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক নিকট জানানো হবে।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম উদ্ভাবন হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” প্রধানমন্ত্রীর এই বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য একক গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে গৃহ প্রদান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ে (২য় ধাপে) আগামী ৯ আগষ্ট (বুধবার)  প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এতে ৬৪ জেলার সকল উপজেলায় একযোগে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে গণবভন হতে সকাল সাড়ে ৯ টার সময়  উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হবে।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ/মহিলা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ও সরকারি কর্মকর্তা, উপকারভোগী, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধিজনদের নিয়ে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের অডিটোরিয়ামে  সকাল সাড়ে ৮ টার সময়  অনুষ্ঠান শুরু হবে।
কক্সবাজারের  উখিয়া উপজেলায় বিগত ২০২০ সালের ১৭ মার্চ  ১ম পর্যায়ে ১০০টি, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি  ২য় পর্যায়ে ৪৫ টি, ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ও ২১ জুলাই  ৩য় পর্যায়ে ২৬৩ টি, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ ৪র্থ পর্যায়ে (১ম ধাপে) ১০০টি সহ মোট ৫০৮ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আগামী  ৯ আগষ্ট  ৪র্থ পর্যায়ে (২য় ধাপে)  উখিয়া উপজেলার মোট ১৫৫ টি গৃহহীন পরিবারকে জমি সহ গৃহ প্রদান করা হবে।
তারমধ্যে রত্নাপালং ইউনিয়নে ২০ টি ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ১৩৫টি মোট ১৫৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ প্রদান বা হস্তান্তর করা হবে। এই নিয়ে উখিয়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ৬৬৩ টি গৃহ নির্মান ও হস্তান্তর করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যেই  মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের (ক শ্রেণী) জন্য গৃহ নির্মান প্রকল্পের ২০২০-২০২২ হতে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নে ১৬৩ টি, রত্নাপালং ইউনিয়নে ৬৮, হলদিয়া পালং ইউনিয়নে ১৯৪ টি, রাজা পালং ইউনিয়নে ১৪৯ টি  ও পালংখালী ইউনিয়নে ৮৯ টি বাড়ি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। ৫০৮ টি বাড়ি ৪২ টি গৃহ ক্লাস্টারে ও ১৫৫ টি বাড়ী ১০ টি গৃহ ক্লাস্টারে স্থাপন করা হয়েছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!