প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৭, ২০২৩, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সাত মুখী বিলে খাস জমির লীজ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে চরম বিরোধ এলাকায় থমথমে ভাব

এম আর ওয়াসিম ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : ভৈরবে সাত মুখী বিলে লীজে আনা সম্পত্তি নিয়ে দুপক্ষের মাঝে জমি দখল নিয়ে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। এক পক্ষ আতাউল্লার সমর্থকরা অপর পক্ষ সিদ্দিক মিয়ার ১৫টি পরিবারের ঘরে তালা দিয়ে দেয়। পরে সিদ্দিক মিয়া ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহায়তায় অসহায় কিছু পরিবারের তালা খোলে দেয়। এতে বিপাকে পড়ে প্রায় ২০ টি পরিবারের মানুষ।
খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন-যাপন করে।
স্বরেজমিনে গিয়ে জানা যায় সাত মুখী বিলের কিছু সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছিদ্দিক মিয়া ও আতাউল্লাহ মিয়ার মাঝে বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরে গত শনিবার সকালে আতাউল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকশ যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছিদ্দিক মিয়ার ভাড়া বাসার ১৫ টি পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভাড়াটিয়ারা ঘরে ঢুকতে না পরায় রান্না-বান্না বন্ধ।খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্থানীয়রা জানায় খাস জমি ভূমিহীন মানুষদের জন্য। কিন্ত বর্তমানে কতিপয় প্রভাব শালীরা লীজে এনে তা কোটি কোটি টাকা বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে ছিদ্দিক মিয়া জানান, তিনি ১৯ ৮২ সালে সরকারের কাছ থেকে সাতমূখী বিলের ৪ একর লীজে এনেছে যার দাগ নং ও কলমি নকশা করা আছে । পরে স্থাপনা করে ভূমিহীনদের কে মাসিক ৫শ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে আতাউল্লাহ মিয়া একই দাগেলীজ নিয়ে ১৯৮৫ সালে মাঠ রেকর্ড করে তার চিহ্নিত করা কলমি নকশার জমি দকল নিতে আদালতে ৩ টি মামলা দায়ের করেছে । এর মধ্যে ২টি মামলার রায় আমার পক্ষে এসেছে । অর অন্য একটি মামলা চলমান রয়েছে । মামলা চলমান অবস্থায় সে আমার নামে ভৈরব থানায় একটি অভিযোগ করলে আমি জমির সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে থানায় ওসির সাথে দেখা করেছি ।
ওসি আমার কাগজ দেখে পরে সমস্ত কাগজপত্র আমাকে ফেরত দিয়েছে । এর পর গত শনিবার আতাউল্লাহ মিয়া কয়েক শ লোক নিয়ে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবী করে । টাকা দিলে নাকি আমার ঝামেলা শেষ । এতে আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সঙ্গে সঙ্গে তার নেতৃত্বে তার লোকজন আমার ভাড়াটিয়াদেরকে মারধোর করে জোর করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা দিয়ে দেয় । পরে সিদ্দিক মিয়া ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ এসে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় । বর্তমানে ভাড়াটিয়াদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানান।
এ বিষয়ে অপর পক্ষ আতাউল্লাহ মিয়া বলেন, মাঠ রেকর্ড,পরচা,নকশা,খাজনা অনুযায়ী জমির মালিক তিনি । তার ঘরে তিনি তালা দিয়েছেন । ভাড়াটিয়াদের কে অন্য কোথা ও ভাড়া নিতে বলেছেন বলে ও জানান তিনি । এ সময় তিনি আরো জানান, কাগজ পত্র অনুযায়ী যদি প্রমাণ হয় জমি ছিদ্দিক মিয়ার তাহলে তাকে জমি দিয়ে দিবো । এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সায়দুল্লাহ মিয়ার বাসায় ২ বার সালিশী বৈঠকে কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে আমার পক্ষে রায় এসেছে । কিন্ত ছিদ্দিক মিয়া রায় মানে না ।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, ২ পক্ষের কাগজ পত্র দেখেছি । তবে আতাউল্লাহর ও তার লোকজন নিয়ে ছিদ্দিক মিয়ার ভাড়াটিয়াদের ঘর থেকে বের করে তালা দেয়ার খবর পেয়ে সাথে সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি । তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.