হোম » প্রধান সংবাদ » সফলতার হাঁসি রিনার মুখে

সফলতার হাঁসি রিনার মুখে

জেএম.মমিন,বোরহানউদ্দিন(ভোলা): রিনা আক্তার (৩৮) । ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বাস করেন। ২০০২ সালে পারিবারিক সূত্রে ওই গ্রামের রুহুল আমিনের সাথে তার বিবাহ হয়।বিয়ের প্রথম থেকেই অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছিলেন স্বামী রুহুল আমিনের ঘরে। ১ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে মোট পাঁচ সদস্যের সংসার তাদের। সংসারের বড় মেয়ে মারজানা আক্তার তামান্না বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্রী। মেঝো ছেলে তৌহিদুর রহমান হামিম দরুন বাজার মোজাম্মেল হক চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে এবং ছোট মেয়ে নসরাত জাহান দরুন বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে।

 

স্বামী কাঠ মিস্ত্ররীর কাজ করলেও সংসার চালাতে হিমশিত খেত প্রতিনিয়ত। এক সময় সংসার চালাতে গিয়ে একটি এনজিও থেকে লোন গ্রহন করেন। পরে ওই এলাকায় কোস্ট ট্রাস্টের ইকোফিশ প্রকল্পের কথা শুনে তাদের সাথে যোগাযোগ করে ইলিশ সংরক্ষন দলের একজন সদস্য হন তিনি। কিছু দিন পর সে প্রকল্প থেকে একটি ছাগল পান এবং সেটি লালন পালন করার পর বংশ বিস্তার হলে তা থেকে বিক্রি করে একটি সেলাই মেশিন কিনেন। এখন সেটি দিয়ে প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করেন। সেখান থেকে যে অর্থ উপার্যন হয় তা দিয়ে সংসারসহ ছেলে মেয়ের পড়ার খরচ চালান। এবং এর উপার্যিত অর্থ থেকে কিছু টাকা জমা করে একটি গরু কিনেন। এখন তার গোয়াল ঘরে ৩ টি গরু রয়েছে।

অন্য দিকে প্রকল্পটির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষন গ্রহন করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সর্ম্পকে নিজে সচেতন হয়েছেন এবং তার এলাকার লোকদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তাদেরকে সচেতন করছেন। শুধু তাই নয় মা ইলিশ রক্ষার জন্য তিনি নিষেদ্ধজ্ঞা সময়ে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে থাকেন। বর্তমানে তিনি মা-ইশিল রক্ষায় ২০ নারী সদস্য দলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি ইকোফিশ প্রকল্পের একজন সদস্য হতে পারে নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং প্রকল্পটির সাহায্যে আমি আজ অনেকটাই সাবলম্বি পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাচ্ছি।ইকোফিশ প্রকল্পের সহোযোগীতায় এখন তিনি দেখেছেন সফলতার মুখ। তার মুখে ফুটে উঠেছে সফলতার হাঁসি।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!