প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:২২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৫, ২০২৩, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বিরল রোগে আক্রান্ত দুই সহোদর: পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিরল রোগে আক্রান্ত আবির হুসাইন নাঈম (১৪) ও নূর হোসেন (৪) নামে দুই সহোদর। এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে দিনযাপন করছে তারা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে ওই দুই সহোদরকে দেখতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক। এসময় ইউএনও দুই সহোদরের পাশে কিছুক্ষণ সময় কাটান। তাৎক্ষণিক কিছু খাদ্য সামগ্রীও দেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবির হুসাইন নাঈম ও নূর হোসেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের শুকুরহাটা গ্রামের চা দোকানি হাবিবুর রহমান ও রাবেয়া বেগম দম্পতির সন্তান। জন্মের পর থেকে তাদের দুই ভাইয়ের চোখ, নখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। কিছুতেই গরম সহ্য করতে পারে না তারা। ৩-৪ মিনিট পর পর শরীরে পানি ঢালতে হয় তাদের। রক্ত বের হতে থাকলে দেখা দেয় প্রবল শ্বাসকষ্ট। অনেক সময় হাত-পা কুঁকড়ে যায়।
বিরল রোগে আক্রান্ত দুই সহোদরের পিতা হাবিবুর রহমান জানান, ১৮ বছর আগে স্ত্রী রাবেয়া বেগমের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের প্রথম সন্তান সুরাইয়া এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্মের ১০ মাস পর মারা যায়। এরপর আল্লাহ তাদের সংসারে দুইটি ছেলে ও একটি মেয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে আবির হুসাইন নাঈম ও চার বছরের শিশু নূর হোসেনও এ রোগে আক্রান্ত হয়।
বড় ছেলে ইচাপাশা হাফেজিয়া নুরানি মাদরাসায় ১৩ পারা হাফেজি শেষ করেছে। মেঝো মেয়ে সাদিয়া আক্তার সামিয়ার বয়স ৯ বছর। সেও ওই মাদরাসায় নুরানি বিভাগে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ২০১৮ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে দুই ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। করোনার পর ওই হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে চা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলছে। অর্থাভাবে বাচ্চা দু'টির চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।
এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হক জানান, 'বিরল রোগে আক্রান্ত দুই সহোদরের খোঁজ-খবর নিতে তাদের বাড়িতে যাই। তাদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।'
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.