হোম » প্রধান সংবাদ » ছিনতাই আতংকে ভৈরব

ছিনতাই আতংকে ভৈরব

এম আর ওয়াসিম,ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :ভৈরব বন্দর নগরী ও বানিজ্যিক এলাকা হওয়ায় রাত-ভোর চলে মানুষের আনাগোনা। তাছাড়া ভৈরব শুধু রেল জংশন নয়,  সড়ক ও নদী পথেরও জংশন বলা চলে। এই সুবাদে দিবা-নিশি চলে যাত্রীদের আনাগোনা। রাত্র গভীর হলে শুরু হত ছিনতাই কারীদের উপদ্রব। রাত একটু গভীর হলেই  বিশেষ করে ষ্টেশন, নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্ট, নাটালের মোড় এই স্থান গুলো দিয়ে  যাত্রী ও জনসাধারণ  ভয়ে আসা যাওয়া করত না ছিনতাই কারীদের ভয়ে। দূরপাল্লার যাত্রীগণ যানবাহন থেকে নেমে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করত নির্দিষ্ট ষ্টেশনে। রাতের আধার কেটে ফর্সা হলে তবেই রওয়ানা দিত গন্তব্যে। কিন্তু ইদানিং রাত আর ভোর নেই,  সুযোগ পেলেই সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েও ক্ষ্যান্ত হয় না, ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে পথচারীদের।  এই ধরনের অভিযোগ বর্তমানে ভৈরববাসীর মুখে মুখে উঠে এসেছে। ছিনতাই ও ছিনতাইকারীদের এ ধরনের বেপরোয়া অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে চাই ভৈরব বাসী।

বর্তমানে ভৈরবে দিন দিন বেড়েই চলেছে কিশোর ছিনতাই কারীদের সংখ্যা। প্রতিদিনই ঘটছে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। ভৈরববাসীর বর্তমান বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিনতাই। শুধু রাতের আঁধারেই নয়-দিনের আলোতেও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ঘটছে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা।ছিনতাই থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কোন পথচারী। গত কয়েক মাস যাবত অররহ  ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের স্বীকার হয়ে সর্বস্ব হাড়িয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

সর্বোপুরি ভৈরবে মাদকের পাশাপাশি আরেক আতংকের নাম ছিনতাই। এদের অত্যাচারে মানুষ কোণঠাসা। ছিনতাই কারীদের  আতংকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষ। তাই এ সামাজিক অবক্ষয়ের পরিবর্তনে প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলায় উঠতি বয়সের তরুণদের বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।

এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা বেশির ভাগই ১৫/২০ বছর বয়সের। তালিকা ভুক্ত ছিনতাইকারীদের সাথে যুক্ত হয়েছে এখন অপ্রাপ্ত বয়সের কিছু ছিনতাইকারী। শিশু অপরাধ হিসাবে সহজে মুক্তি পেয়ে আবারও যুক্ত হয় এই চক্রে। এরই জের হিসেবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের উপদ্রব। এই উপদ্রব থেকে পরিত্রান চাই ভৈরব বাসী।

ছিনতাইয়ের উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলোর মধ্যে রেলস্টেশন সড়ক,  নিউটাউনের মোড়, নাটালের মোড়, মনমড়া ব্রিজ, নতুন রেলসেতু, বঙ্গবন্ধু সরণি, আমলাপাড়া ও শহীদ আইভি রহমান  স্টেডিয়াম রোড অন্যতম। একটু সুযোগ পেলেই এই এলাকা গুলোতে দিবালোকেই ছিনতাই শুরু করে দেয়। এসব এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত কারী ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, ব্যবসায়িক কাজকর্ম শেষে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। কিন্তু ছিনতাই কারীদের ভয়ে আমরা যাতায়াতকালে চরম আতঙ্কে থাকি। আমাদের জানমালের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারপরও বাধ্য হয়েই রাত-বেরাতে যাতায়াত করতে হয়। তাই জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ছিনতাই দমনে প্রশাসনকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ভৈরবের ছিনতাই আতংকের বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল খাঁন বাহার বলেন ভৈরবে কোন ছিনতাই কারী থাকবে না।  রাত বেরাতে যাতে করে ভৈরবসহ সকল পথচারী ও যাত্রীগণ যেন রেল ষ্টেশন সহ সকল যায়গায় যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা ২০ জন ছিনতাইকারীকে কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরন করেছি। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান বাহালুল খান বাহার।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!