মোহাম্মদ হানিফ (গোলজার) নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী বাইপাস চৌরাস্তা থেকে সোনাপুর জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২০কিলোমিটার ফোরলেন সড়কে পথচারি পারাপারের জন্য ১০টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। ইতোমধ্যে ৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকি ২টি ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া পুরো সড়ক জুড়ে বসানো হচ্ছে রোড ডিভাইডার।
ডিভাইডার বসানোর কাজ শেষ হলে সাধারণ পথচারিরা রাস্তা পারাপারে বাধ্য হয়েই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবেন। এতসব আয়োজনের মধ্যেও প্রতিবন্ধীদের রাস্তা পারাপারের জন্য নেই কোনো সুযোগ। ফুটওভার ব্রিজেও তাদের পারাপারের জন্য নেই বিশেষ কোনো ব্যবস্থা। এতে ফোরলেন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাস্তা পারাপারে চরম বিপাকে পড়তে হবে তাদের। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জানা যায়, নোয়াখালী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সোনাইমুড়ী -সোনাপুর সড়ক। এ সড়ক হয়ে প্রতিদিন দেশের সব অঞ্চলে যাতায়ত করে কয়েক হাজার গাড়ি। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই এ সড়কে যান চলাচলের পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত থাকে।
এতে বিভিন্ন সময় অসাবধানতাবশত সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটছে প্রাণহানি।
ফোরলেন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে এ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের দাবি তোলেন স্থানীয়রা। বিষয়টি আমলে নিয়ে এই ২০কিলোমিটার সড়কের জন্য ১০টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু ফুটওভার ব্রিজগুলোতে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। এতে স্থানীয়দের মনে চরম ক্ষেভের সঞ্চার হয়েছে। এত বড় বাজেটের এসব ফুটওভার ব্রিজে প্রতিবন্ধীদের পারাপারে চলন্ত সিড়ির ব্যবস্থা করাসহ আরও নান্দনিক করা যেত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কের সোনাইমুড়ি বগাদিয়া বজরা মেডিকেল বজরা বাজার আফানিয়া মন্দার হাট চৌরাস্তা, একলাশপুর, গাবুয়া, মাইজদী বাজার, মাইজদী বড় মসজিদ মোড়, হরিনারায়ণপুর, দত্তের হাট ও সোনাপুর এলাকার আশেপাশে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা করেন। তারাও অন্য সবার মতো রোজ এই সড়কে চলাচল ও রাস্তা পারাপার করেন।
এছাড়া জেলা শহর মাইজদীতে জেলার সব গুরুত্বপূর্ণ দফতরের অবস্থান হওয়ায় প্রতিদিন সেসব দফতরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারতে আসেন কয়েক হাজার সেবাপ্রত্যাশীরা। সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যেও সাধারণ মানুষের সাথে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন যারা এসব দফতরে যাতায়ত করেন।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পে নেই প্রতিবন্ধীদের রাস্তা পারাপারে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা।
সোনাইমুড়ী বাইপাস এলাকার মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন , প্রতিদিন এ সড়কে অসংখ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি চলাচল করেন, রাস্তা পার হন। ফোরলেনের কাজ শেষ হলে যাদের পা নেই, যারা হুইল চেয়ার কিংবা স্ট্রেচারে চলাচল করে তারা কীভাবে কাস্তা পার হবে? এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ কি উদ্যোগ নিয়েছে? তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক আতঙ্কে আছি।
ইসলামগঞ্জ বাজার ইকবাল হোসেন বলেন আমাদের এলাকায় সাধারাণ চলাফেরায় অক্ষম। অন্যের সহযোগিতা নিয়ে কিংবা সাধারণের থেকে ধীরগতিতে তারা চলাফেরা করেন ও রাস্তা পার হন। ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় যে ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে বাজারের একই বারে দক্ষিণ পাশে এতে এই ব্রিজের কোনো কাজে আসে না । ফলে তাদের পারাপারে অনেক দুর্ভোগে পড়তে হয়। যেকোনো সময় তারা বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।
বেগমগঞ্জের চৌরাস্তার মোহাম্মদ ইমরান হাসান বলেন . এটা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই করেছে কিনা সেটি ভাবার বিষয়। কর্তৃপক্ষ হয়তো আবার নতুন করে বরাদ্দ নিয়ে এ কাজ করার উদ্যোগ নিতে পারে। এতে সরাকরের বিপুল অর্থের অপচয় হবে। এসব কাজ করার আগে আরো সুদুরপ্রসারি চিন্তা করতে হবে।
একলাশপুর এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন সোনাইমুড়ী -সোনাপুর ফোরলেন সড়কের প্রতিবন্ধীদের পারাপারের কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাষ্ট্র এ বিষয়টি এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশ্বের অনেক দেশে ফুটওভার ব্রিজে প্রতিবন্ধীদের পারাপারের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও কিছু জায়গায় এ ব্যবস্থা রয়েছে। নোয়াখালীতে ও তাদের পারাপারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা উচিত।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলাম বলেন, বেগমগঞ্জ-সোনাপুর ফোরলেন প্রকল্পেন চলমান কাজ দ্রুত শেষ হবে। এ প্রকল্পের মধ্যে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজের মধ্যে ৮টির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। বাকি গুলো নির্মান কাজ চলমান। তবে এসব ফুটওভার ব্রিজে প্রতিবন্ধীদের পারাপারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রাখা হয়নি। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে