
হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার থানার দক্ষিণ পুস্তিগাছা গ্রামের কচিয়ার বিলে সরকারী ৬ একর ৩৪ শতক বিল জোরপূর্বক দখলের পায়তারা অভিযোগ উঠেছে ইমরুল হাসান ওরফে আরিফ গংদের নামে।
তিনি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকতা পদে কর্মরত। এবং দক্ষিণ পুস্তিগাছা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। এ ঘটনায় ওই কর্মকতার বিচার দাবী করে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহ মসজিদ কমিটির লোকজন গণস্বাক্ষর সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর বরাবর লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
জানা যায়, সলঙ্গা থানার রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পুস্তিগাছা গ্রামে সিএস আমল (১৯২৫ সাল) থেকে প্রায় ২০ একর জমিদারী খাস সম্পত্তি (পুকুর, দীঘি বিল ইত্যাদি) রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামের কচিয়ার বিলে ৬ একর ৩৪ শতক সম্পত্তি জলাশয় হিসাবে গ্রামবাসী এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বাৎসরিক লিজ প্রদান করে আসছে। এবং গ্রামের হারান আলী আকন্দ ও আছের প্রামানিক এর নামে ৭৪ শতক করে সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছে।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে কচিয়ার বিলে পুকুর খনন শুরু হয়। কচিয়ার বিলে খাস সম্পত্তির চারিদিকে পুকুর কাটা বাড়তে থাকলে পুরো বিলটি জলাশয়ে রুপ নেয়। ২০১৯ সালের দিকে গ্রামের মসজিদ কমিটি জনৈক শফিকুল ইসলামকে সরকারী বিলটি লিজ প্রদান করে।
তিনি সেখানে চারদিকে বাধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করলে তার সাথে চরম বিরোধ তৈরী হয় একই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে বিআরডিবি কর্মকতা ইমরুল হাসান ওরফে আরিফ সাথে।
এই কর্মকতা গ্রামবাসী ও পুকুরের লিজ গ্রহিতাকে সরকারী পুকুরটি তার নামে লিজ দেবার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। গ্রামবাসী ও পুকুরের লিজ গ্রহিতা তাতে রাজি না হওয়ায় ওই কর্মকতা বিলের মাঝ দিয়ে রাতের আঁধারে বেকো মেশিনের সাহায্য মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছের পোনা ছাড়েন।
এ নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে চরম বিরোধ বাধে ইমরুল হাসান আরিফের। পুকুরের দখল থেকে গ্রামবাসীদের সরিয়ে দেবার জন্য তিনি তাদের নামে তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা হামলা করে হয়রানি করতে থাকেন । সরকারী কর্মকতার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি যে কোন মূল্যে সরকারী বিলটি দখলের জন্য মরিয়া হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় নির্যাতিত গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার কচিয়ার বিলে সরকারী পুকুর পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর বরাবর গণস্বাক্ষর সহ অভিযোগ দিয়ে ওই কর্মকতার কঠোর শাস্তি দাবী করেন।
দক্ষিন পুস্তিগাছা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম বলেন, গত ২ আগষ্ট ২০২২ সালে আমরা গ্রামের ফারুক হোসেনকে সমঝোতার মাধ্যমে বিল লিজ দেই। পরে ফারুক হোসেন কিছু দিন পর এক প্রভাবশালীর ভয়ে লিজ গ্রহন করবে না বলে দাবী করে এবং অগ্রিম টাকা ফেরত নেন।
পরে তারা গত ২ সেপ্টেম্বর ১২/১৩জন মৎসচাষীকে লিজ প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পুস্তিগাছা গ্রামের এসে সেই লিজ অনুমোদন দেন। সেখানে মৎসচাষীরা চাষাবাদ করতে গেলে ফারুক ও আরিফ এতে বাধা দেয়।
বিষয়টি গ্রামবাসী থানা পুলিশকে অবগত করলে এতে পিছু হটে তারা। পরে ইমরুল হাসান আরিফ তার চাচা মেহেদী হাসান এর মাধ্যমে জালিয়াতির মাধ্যমে বিলের ভুয়া মালিকানা দাবী এবং ফারুকের ডিডের ফটোকপি দিয়ে নিজেকে লিজি দাবী করে জেলা ম্যাজিস্টেট আদালতে গ্রামের মসজিদ কমিটির সদস্য ও মৎস্যচাষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। গত ১ জুন ২০২৩ইং তারিখে উভয় পক্ষের শুনানীর মাধ্যমে আদালত তাদের দাবী না মঞ্জুর করে মামলা দুটি খারিজ করে দেন।
এরপর গ্রামবাসী মাছ মারা শুরু করে। এদিকে আদালতের রায় তোয়াক্কা না করে মেহেদী, ফারুক হোসেন ও বিআরডিবির কর্মকর্তা ইমরুল হাসান ওরফে আরিফ আবারও মাছ মারতে বাধা দেয়। শুধু তাই নয় গত ৩ জুন সকালে মাছ চাষীরা মাছ মেরে সিরাজগঞ্জ রোড সংলগ্ন আড়তে নিয়ে আসার সময় র্যাব অফিসের সামনে আরিফ, ফারুক ও মেহেদী মাছের গাড়ী থামিয়ে ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা চালায়। এসময় মাছের গাড়ীতে থাকা সোহরাব ও মোশারফকে প্রাণনাষের হুমকি এবং মাছ ছিনতায়ের চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তারা সলঙ্গা থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ এসে মাছ উদ্ধার করে। এবং তারা পালিয়ে যায়।
দক্ষিন পুস্তিগাছা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ সুজাবত আলী আকন্দ বলেন, ইমরুল হাসান ওরফে আরিফের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারী চাকরীজীবী হয়েও প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের সরকারী সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
এই সম্পত্তি আমরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম ও মসজিদের উন্নয়নে লিজ দিয়ে আসছি। কিন্তু তিনি এসব অমান্য করে সরকারী জায়গা নিজে এককভাবে দখল করতে চাচ্ছে। আমরা বাধা দেয়ায় সে আমাদের নামে তার লোকজন দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
তিনি একজন সরকারী কর্মকতা হয়ে সারা মাস অফিসে না গিয়ে এলাকার কৃষি জমিতে অবৈধভাবে একাধিক পুকুর কেটে কোটি টাকার মাছচাষাবাদ করছেন। তিনি একজন সরকারী চাকুরীজীবি হয়ে এতো টাকা কোথায় পেলেন তা আমাদের জানা নেই। আমরা তার এই কর্মকান্ডের দৃশান্তমূলক শাস্তি দাবী করি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরুল হাসান আরিফ জানান, আমি মাছ চাষাবাদ করি না। আমার বাবা চাচারা করেন। আমি কোন সরকারী সম্পত্তি দখলও করিনি। গ্রামবাসী আমার নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।