প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১২:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১০, ২০২৩, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিস্থিতি আমাদের করণীয় এক শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত

শাহজাহান সিরাজ: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ( সিপিডি)’র আয়োজনে এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এসডো এর সহযোগীতায় শনিবার গাইবান্ধা সদরের রাধাকৃষ্ণপুর এসকেএস ইন হলরুমে দিনব্যাপী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি’র ফেলো এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ এর আহবায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সভাপতিত্ব করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হবে। এবিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাই একমত। শিক্ষা বলতে শুধু লক্ষ লক্ষ এপ্লাস বা গোল্ডেন এ নয়, শিক্ষার মানের উন্নয়ন করতে হবে। মান নিশ্চিত করতে হলে তা প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শুরু করতে হবে। যে পরিমাণ অর্থ সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয় তা যথেষ্ট নয়।
সম্পদের অভাব সত্বেও শিক্ষা খাতে আরও বরাদ্দ দেয়া সম্ভব। আবার পৃথিবীব্যাপী এটা প্রচলন যে শিক্ষা খাতের মোট বরাদ্দের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের কত দেয়া হয় এটা প্রশ্ন আছে। প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- আইন, বিচার ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ও গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি।
সম্মানিত আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ, সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম, এসকেএস স্কুল এন্ড কলেজ ভাইস প্রিন্সিপাল ড. অনামিকা সাহা, ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইএসডিও জেনারেল কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান, সিপিডি ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান।
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন- দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। যেসব এলাকায় দারিদ্রতার হার বেশি সেখানে উন্নতির হার বাড়াতে হবে। চর এলাকায় শিক্ষকদের থাকার জন্য রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। স্কুলের সাথে সংযোগ সড়ক থাকতে হবে।
সরকারের চ্যালেঞ্জিং স্কুলগুলোর সুনির্দিষ্ট লিষ্ট করে সংযোগ সড়ক করে দেয়া উচিৎ। হোক সেটা পাকা বা হেয়ারিং রাস্তা। সরকার বলছে গ্রামে দারিদ্রতার হার ৬০ পার্সেন্ট। এটা কখনো হতে পারে না। সুন্দরগঞ্জে দারিদ্রতার হার ৭০ থেকে ৮০ পার্সেন্ট। যেখানে দারিদ্রতার হার বেশি সেখানে উপবৃত্তির হার বেশি করতে হবে। হাইস্কুলে যারা সাইন্সের ছাত্র আছে, যারা ক্লাস ৭,৮,৯ বা ১০ মিস করল। তারা কিন্তু পরবর্তীতে গ্রো করতে পারবেনা। ইন্টারন্যাশনালি প্রাইমারী পাশ করাচ্ছি। ক্লাস সিক্স বা সেভেনে উঠার যোগ্যতা অর্জন করছে কিনা। যারা দেশে বা বিদেশে ভালভাবে পড়াশোনা করে যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা নিজের যোগ্যতায় করেছে।
দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা তেমন সাপোর্ট দেয়নি। চর এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ঢাকার প্রাইমারী স্কুলের সিষ্টেম যা, গ্রামে তা, সদরে তা, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় তা, চরেও তা। এটা হতে পারে না। একেক জেলার বাস্তবতা একেক রকম। একেক জেলার অগ্রাধিকার একেক রকম। বন্যার পানি যখন স্কুলে। যে এলাকায় ৮০ পার্সেন্ট লোক দরিদ্র। সে এলাকার বাবা মার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকবেনা। সে চাবে তার মেয়ে বাড়িতে কাজ করুক, গার্মেন্টস এ চলে যাক। কৃষি কাজ করুক। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই ক্লাস সিক্স সেভেনে উঠার আগেই বিয়ে দিয়ে দেয়। তাহলে প্রাইমারী স্কুলে পড়ে লাভ কি? একটা ইনসেন্টিভ হতে পারত, তা হলো উপবৃত্তির হার যদি বেশি হত।
উল্লেখ্য যে- সুন্দগঞ্জে সর্বমোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৫৯ টি। গাইবান্ধা জেলায় বাল্য বিবাহের হার জাতীয় হারের চেয়ে বেশি। এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে জাতীয় হারের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম। নিরাপদ খাবার পানির দিক দিয়ে জেলার পরিসংখ্যান ভাল হলেও প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এখনো নিরাপদ স্যানিটেশনের আওতায় আসেনি। শিক্ষা অবকাঠামোতে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় বাথরুম তৈরি করা ও তা নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নিদিষ্ট জনবল না থাকার অন্যতম কারন সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.