হোম » অপরাধ-দুর্নীতি » নারায়ণগঞ্জে তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

নারায়ণগঞ্জে তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

মোঃ কবির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে৷ অগ্নিকান্ডে বিপুল পরিমাণ পিস প্রস্তুত করা গেঞ্জি, ফেব্রিক্স ও একটি ডিজিটাল কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকার মজিব ভবনে অবস্থিত একে ফ্যাশনে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে৷ অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া গেঞ্জিগুলো আজ রবিবার শিপমেন্ট হওয়ার কথা ছিলো বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইসফাত আহসান। আগুনে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে দাবি করেন তিনি৷ ভবনটির মালিক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান।

এদিকে খরব পেয়ে আদমজী ফায়ার সার্ভিসের ৩টি, হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ২টি, ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের ২টি এবং মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ২টিসহ মোট ৯টি ইউনিট ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
এদিকে অগ্নিকান্ডে বিপুল পরিমান ক্ষতির কারণে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মালিক পক্ষের ভাগ্নে কবির উদ্দিন চৌধুরী শিপুসহ ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা। ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোর ৪ টার সময় একে ফ্যাশন গার্মেন্টসের সিকিউরিটি দ্বিতীয়তলায় আগুন দেখতে পেয়ে মালিকপক্ষকে ফোনে জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এবং আদমজী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিট পর্যাক্রমে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ৪ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। কিন্তু এর আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবান মালামাল।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আকতারুজ্জামান তাৎক্ষনিক আগুনে ক্ষয়ক্ষতি ও আগুনের সূত্র নিয়ে কিছু বলতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, তার পর জানা যাবে আগুনের সূত্রপাত কি ভাবে হয়েছে।

একে ফ্যাশনের পরিচালক ইসফাত আহসান বলেন, ভোর বেলায় আগুনের কথা শুনে দ্রুত ছুটে যাই গার্মেন্টসে। আগুনের লেলিহাল শিখা আমাদের সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। শনিবার রাত ৭ পর্যন্ত কারখানা চলে বন্ধ হয়ে যায়। নিচ তলায় বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ ছিলো। তাই শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে ২ তলায় আগুনের সূত্রপাত হওয়া অসম্ভব। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক।

এদিকে মালিকপক্ষের ভাগিনা শিপু গার্মেন্টসে আগুন দেখতে পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এ গার্মেন্টসটি সবসময় দেখে রেখেছি। এত কষ্ট করে এই পর্যন্ত কারখানাটিকে এনেছি। আগুন সব কিছু শেষ করে দিলো।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!