
মো:তারিকুল ইসলাম,কালাই উপজেলা প্রতিনিধিঃ মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের বাকি দুই সপ্তাহেরও কম সময়। ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কালাই উপজেলার মানুষ। প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি বিতানে পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে ছুটছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। সেই সঙ্গে প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি বিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
উপজেলার প্রতিটি শপিংমল, বিপনি বিতান, হকার মার্কেট ও ফুটপাত গুলোতে ভিড় জমাচ্ছে উচ্চ, মধ্য, নিম্নবিত্তসহ নানা শ্রেণীর পেশার মানুষ।সকল বিপনি বিতানে পসরা সাজিয়ে বসেছে বাহারী রঙয়ের পোষাক। এবারে বাংলাদেশী তৈরি কাপড়ের পরিমাণ অনেক বেশি দেখা গেলেও বাজার রয়েছে ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি কাপড়ের দখলে। ইতিমধ্যে ২০ রমজানের পর থেকে জমে উঠেছে উপজেলা শহরের শপিংমলগুলো।বিভিন্ন বয়সী ক্রেতারা এরই মধ্যে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এবারের ঈদ আয়োজনে ছেলে শিশুদের জন্য আছে শার্ট, ফতুয়া, শর্ট স্লিভ, ফুল স্লিভ, লং প্যান্ট, কোয়ার্টার প্যান্ট ও বিভিন্ন রংয়ের পাঞ্জাবি। মেয়ে শিশুদের জন্য রয়েছে- ফ্রক, পার্টি ফ্রক, ফ্যাশন টপস, থ্রি পিস, জাম্প স্যুট, নীমা সেট, টপ বটম সেট, লং ও শর্ট স্লিভ শার্ট, পলো টি-শার্ট ও কার্গো। পুরুষদের পোশাকের মধ্যে বেশি চলছে হালকা ও টেকসই ফেব্রিকের তৈরি বিভিন্ন রংয়ের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, ইজি কেয়ার শার্ট, পাজামা, ডেনিম প্যান্টস, জিন্স,গ্যাবাডিনের প্যান্ট ও সুতির লং পাঞ্জাবী।
মেয়েদের আকর্ষনীয় পোষাকের তালিকায় রয়েছে সারারা, গারারা, লেহেঙ্গা, স্কাট ও ফ্লোরটার্চ- থ্রি পিস, টু পিস, কাজ করা জর্জেট কামিজ, ভিসকস কামিজ, বিভিন্ন রংয়ের প্রিন্ট লং শার্ট, টপস, টিউনিকস, কামিজের জন্য রয়েছে এমব্রয়ডারি স্ক্যান্টস, পালাজ্জো ও লেগিংস।পাশাপাশি বাজারে বুটিকসের থ্রীপিস, কাটা থ্রীপিস, ভারতীয় শাড়ী, কাতান, সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ী, তাঁতের শাড়ী ও জামদানি শাড়ী।
ঈদকে সম্পূর্ণভাবে নতুনরুপে উপভোগ করতে তাই ক্রেতারাও এ সময় পোশাক কেনাকাটায়ও খোঁজেন একটু ভিন্নতা। নিজেকে কিছুটা হলেও আলাদাভাবে সাজানোর প্রবণতা থাকে সবার মাঝেই। যদিও স্থানীয় শপিং মল, পাড়া-মহল্লার দোকানে লেটেস্ট সব কালেকশন না থাকলেও থরে থরে সাজানো আছে নিত্য নতুন পোশাক। নিজের জন্য বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
কালাই বাজারের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা পছন্দমতো পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন। মার্কেটগুলোতে ক্রেতারা রেডিমেড পোশাকের প্রতিই বেশি ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।এই ঈদে দোকানিরা ইন্ডিয়ান সারারা জর্জেট, ডায়মন্ড, বিনয়, কাঁচা-বাদাম, লাচ্ছা, বিবেগ, লংস্কার্ট, পাখি-লেহেঙ্গা, ঐশ্বরিয়ার ময়ূরী-ড্রেস আর পাকিস্তানি বাড়িস, খুবসুরত, পাকিস্তানি-কটি, শাহজাদি ইত্যাদি ডিজাইনের পোশাক এনেছেন। এসব ডিজাইনের কাপড় রকম ভেদে ২ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার টেইলার্সের দোকানেও প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। ঈদের দুই সাপ্তাহ সময় থাকতেই এখন থেকে কাপড় বানানোর অর্ডার তেমনভাবে আর নেওয়া হচ্ছে না বলে টেইলার্স মালিকরা জানান।
কালাই তালুকদার মেনসন মার্কেটে ঈদবাজার করতে আসা সামিয়া মুনিয়া জানান, গত দুই বছর ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে পারিনি। এবার রোজার দুই সাপ্তাহ শেষে শপিং করতে এসেছি। চলতি সপ্তাহে নিজের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য শপিং শেষ করতে চাই। কারণ শেষদিকে অনেক ভিড় হয়।
তিনি বললেন, ‘এখানে মানভেদে শাড়ির দাম ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া মেয়ের জন্য অলঙ্কার, প্রসাধনীও এখান থেকেই কিনব। আমরা যারা দূরে বড় বড় মার্কেটে যেতে পারি না তাদের জন্য এসব শপিং মল বা পাড়া-মহল্লার দোকানই ভরসা।’
তালুকদার নিউ মার্কেটে ঈদবাজার করতে আসা আরেক ক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ঈদে সব জিনিসপত্রের দাম বেশি। কিন্তু কি আর করার আছে। ঈদে কিছু কেনাকাটা করার দরকার, তাই মার্কেটে এসেছি।
কালাই আহলে হাদীস মসজিদ মার্কেটের রুহুল বস্ত্র বিপণীর পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন জানান, ক্রেতারা নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনছেন। এ দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিত্য-নতুন ডিজাইনের মেয়েদের সিল্ক, বেনারসি, টাঙ্গাইল প্রিন্ট, জামদানি ও কাতান শাড়িসহ থ্রি-পিস, লং-থ্রিপিস, সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, ছিট-কাপড় গ্যাবাডিং-প্যান্ট, হাফ শাট, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। ডিজাইন ও রকম ভেদে কাপড়গুলোর ৬০০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা অনেক ভালো হবে।
একই মার্কেটে সোহাগ গার্মেন্টস এর দোকানি মোঃ সোহাগ হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় মধ্য ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারাই আমাদের এখানে বেশি আসে। ঈদের বাকি আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম। তাই শেষ সময়ে এসে ঈদের বাজার জমজমাট হচ্ছে। আমরা খুব বেশি লাভ না করেই বেশি সেল করতে পারছি।’
ভাই ভাই সুপার কমপ্লেক্সে আরশে ফ্যাশন হাউজের মালিক লিটন তালুকদার জানান, “আমরা এবারের ঈদে ক্রেতাদের কথা বিবেচনায় রেখে বাহারি ও নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক এনেছি। বিভিন্ন দামের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে আমাদের এখানে। খুব কম দামের মধ্যেই দিচ্ছি আমরা।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, তবে গতবারের চেয়ে এবার জামা-কাপড়ের দাম বেশী বলে তাই বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর ক্রেতারা বলছেন এবছর সকল জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি।তাই হিমশিম খেলেও পরিবারের চাপে বছরের নতুন পোশাক কিনে নিতে হচ্ছে। তবুও ঈদ আনন্দ যেন পরিবারের সকলে মিলে উপভোগ করতে পারি।
ঈদ মার্কেট ক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে করতে পারে,সেবিষয়ে জানতে চাইলে কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম ময়েনুদ্দিন জানান, বর্তমান উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভাল। আমরা জনগণের জান-মাল রক্ষার জন্য সব সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন বিপণি-বিতান দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সব সময় টহল দিচ্ছে।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল