
রায়হান আলীঃ উল্লাপাড়ায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত ১৪ মাসে এই কর্মযজ্ঞ বন্ধে প্রশাসন থেকে ৩৩ দিন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান এসকল অভিযানের নেতৃত্ব দেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৩ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন এলাকার মোট ৬৬টি অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের এসব অভিযান পরিচালিত হয় উপজেলার সলংগা, রামকৃষ্ণপুর, বাঙ্গালা, ভেংড়ি, কালিকাপুর, পূর্ণিমাগাঁতী, ভট্টমাঝুরিয়া, সলপ, বড়হর, হাটিকুমরুল, ঘোনা কুচিয়ামরা, আগরপুর, অলিপুর, অনুখা, নাইমুড়ি, দক্ষিণ পুস্তিগাছা, জালশুকা, দবিরগঞ্জ, পাঠানপাড়া, মাঝিপাড়া, ছয়বাড়িয়া ও গজাইল এলাকায়। ভ্রাম্যমান আদালত এসময়ে পুকুর খননের জমি মালিকদের নিকট থেকে মোট ৯ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ টাকা জরিমানা করেন। এসব অভিযানকালে মাটি খননে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনের শতাধিক ব্যাটারি জব্দ ও নষ্ট করা হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোঃ উজ্জল হোসেন জানান, উপজেলায় বিশেষতঃ পশ্চিমাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে কৃষি জমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের প্রবনতা সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের মধ্যে অনেক বেড়ে গেছে। এরা সরকারি নিয়মনীতি না মেনে নিজেদের জমিতে খেয়াল খুশি অনুসারে পুকুর খনন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দেওয়া হয় প্রশাসনের কাছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উল্লিখিত এলাকাগুলোত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। এত জেল জরিমানার পরেও এদের এই প্রবনতা এখনও রয়ে গেছে।
তবে প্রশাসন কোনভাবেই সরকারি অনুমোদন ব্যতিরেখে কাউকেই অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে দেবে না। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান আরো জোরদার করা হবে। কৃষি জমি রক্ষায় সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন নির্বাহী কর্মকর্তা।