
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দ্রকোনায় দলিল লেখক বাবলু মন্ডলের বিরুদ্ধে এক দাতার জায়গার ছাম পরিবর্তন করার গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে প্রতারণামুলক কারসাজি ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে পুর্ববর্তী দলিলের নির্দিষ্ট পশ্চিম ছামের পরিবর্তন ঘটিয়ে পরবর্তী গ্রহীতার বেলায় দলিলে পুর্বছাম উল্লেখ করায় সেই পুর্বছামের মালিক তাহমিনা সুলতানা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে দলিল লেখকের সহায়তায় ছাম পরিবর্তন করে নেওয়া জায়গার মালিকদাবীদার শামীম মন্ডল সেখানে অবৈধভাবে বাড়ী নির্মাণ করছেন।
এঘটনায় তাহমিনা সুলতানা ওই জায়গার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ছাম পরিবর্তন করায় আদালতে প্রতারণাসহ নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে ছাম পরিবর্তন করায় পুর্বের দলিল দাতা সুলতান মাহমুদ নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানাগেছে,সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১নং খলিফাপট্রি মহল্লার লতিফন নেছা নওদা তেলকুপি মৌজার আরএস ৮৭৩ নং দাগ ও আরএস ৫০ খতিয়ানভুক্ত ১০৮ শতক জমির মধ্যে তার পুত্র আব্দুস সাত্তার,শামীম আহমেদ,আব্দুস সবুর ও সুলতান মাহমুদকে পশ্চিম ছাম থেকে ৬৩ শতক জায়গা বিগত ১২/০৬/২০০৬ তারিখে দানপত্র দলিল করে দেন।
যার দলিল নং- ২৯১৯/০৬। কিন্তু পারিবারিক প্রয়োজনে লতিফন নেছার পুত্র সুলতান মাহমুদ তার অংশ হতে ৮ শতক জায়গা কাজিপুর উপজেলার জাজিরা গ্রামের খলিলুর রহমান গংদের নিকট বিগত ১১/০২/২০১৬ তারিখে বিক্রি করে দেন,যার দলিল নং-১০০৫/১৬। পরে সেই জায়গা চন্দ্রকোনা গ্রামের আমিনুল ইসলাম খলিলুর রহমান গংদের নিকট থেকে কিনে নেন। একপর্যায়ে ক্রয়সুত্রে মালিক হয়ে আমিনুল ইসলাম সেই জায়গা একই গ্রামের শামীম মন্ডলের নিকট ৪ শতক ও সয়াধানগড়া এলাকার বাসিন্দা হাসি খাতুনের নিকট ৪ শতক জায়গা পৃথক পৃথকভাবে বিক্রয় করে গত ০৭/০২/২০২৩ তারিখে সিরাজগঞ্জ সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের মাধ্যমে বিক্রয় কবলা দলিল করে দেন।
কিন্তু দলিল লেখক বাবলু মন্ডল,সনদ নং-১০৮ সারসাজি করে এবং সুকৌশলে বিগত ১২/০৬/২০০৬ তারিখের দানপত্র ২৯১৯/০৬ নং দলিলের তথ্য গোপন করে দলিলের উল্লেখিত পশ্চিম ছামের স্থলে পুর্বছাম উল্লেখ করে শামীম মন্ডল ও হাসি খাতুনের নামে জায়গাটি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন।
এতে সুলতান মাহমুদ এর দাবি দলিল লেখক বাবলু মন্ডল,সনদ নং-১০৮ কারসাজি করে পশ্চিম ছাপ এর পরিবর্তে দলিলে পুর্বছাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই পুর্বছামে সুলতান মাহমুদের কোন জায়গা নেই বলে তিনি জানান। তবে এমন প্রতারনা করে তার ওয়ারিশানদের পুর্ব ছামের জায়গায় অবৈধভাবে বাড়ী করার উদ্দেশ্যে ঘর তোলায় তা তিনি বন্ধ করার জন্য গতকাল শনিবার(১৮ ফেব্রুয়ারী) সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এদিকে দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়,ওই দাগের পুর্বছামে সুলতান মাহমুদ এর ৪ বোনের খরিদকৃত ৩৬ শতক জমি রয়েছে। সেই পুর্বছাম হতে সুলতান মাহমুদের বড়ভাই আব্দুস সাত্তার মুন্না তার বোন নাসরিনের প্রাপ্তঅংশ হতে ৯ শতক জায়গা বিগত ২৪/০৮/২০১১ তারিখে কিনে নিয়েছেন,যার দলিল নং-৬০২৪। অপরদিকে আরেক বোন তাহমিনার প্রাপ্তঅংশ হতে ৯ শতক জায়গা সুলতান মাহমুদের ভাতিজি ও আব্দুস সাত্তার মুন্না’র মেয়ে তাহমিনা সুলতানা বিগত ১২/১০/২০০৯ তারিখে কিনে নিয়েছেন,যার দলিল নং-৫৯৬৬।
অথচ আব্দুস সাত্তার মুন্না এবং তার মেয়ে তাহমিনা সুলতানা’র পুর্বছামের জায়গায় অবৈধভাবে আধাপাকা ঘর উত্তোলন করছেন চন্দ্রকোনা গ্রামের আকতার হোসেন মন্ডলেরর পুত্র শামিম মন্ডল।
এদিকে ছাম পরিবর্তন করার ঘটনায় তাহমিনা সুলতানা এসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন,যার মামলা নং- ও/সি ৩/২৩। এদিকে প্রতারণা করার ঘটনায় ওই দলিল লেখকের শাস্তি চেয়ে ভুক্তভোগীরা আইনমন্ত্রীসহ মহানিবন্ধক ও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ