প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৩, ২:২৩ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামের জিঞ্জিরাম নদে ৫২ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি , দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: একটি সেতুর দাবীতে ৫২ বছর থেকে অপেক্ষা করছেন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা বসবাসকারি ৫০ হাজার মানুষ। চরম দূর্ভোগে রয়েছেন ১০টি গ্রামের মানুষ। দেশ স্বাধিন হওয়ার ৫২ বছর অতিবাহিত হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ অঞ্চলের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা চর লাঠিয়ালডাঙ্গা ও আলগারচর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যায় জিঞ্জিরাম নদীটি। উপজেলা সদর হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তঘেঁষা এলাকা। গ্রামগুলো হচ্ছে-দক্ষিন আলগারচর, উত্তর আলগারচর, লাঠিয়ালডাঙ্গা, চরলাঠিয়ালডাঙ্গা, বাগানবাড়ী, বালিয়ামারী ও নয়াপাড়া।
এ অঞ্চলের মানুষের জিঞ্জিরাম নদীর উপর দিয়ে পারাপারে একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। প্রতিবছর এলাকার মানুষের দূর্ভোগ কমাতে নিজস্ব অর্থে ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হয়। প্রতিদিন কোমলমতি স্কুল, কলেজ, মাদ্রসার শিক্ষার্থী, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, বিভিন্ন মালামাল ও যানবাহনসহ চালকগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষাকালে নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে।
যখন নৌকা কিংবা বঁাশের সঁাকো কোনটিও থাকে না এসময় কলাগাছের ভেলায় চড়ে নদী পারাপার হয়। অপর দিকে উপজেলা সদরের সাথে সংযোগ রাস্তাটিরও বেহালদশা হওয়ায় যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিম উদ্দিন (৮৫), আক্ষেপ করে বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫২ বছর অতিবাহিত হলেও উন্নয়ন কি জিনিস দেখতে পারলাম না। কিন্তু আমাদের এ অঞ্চলে একটি ব্রীজের জন্য বারবার আবেদন জানালেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
মৃত্যুর আগে নদীর উপর ব্রীজ দেখতে পেলে মনটা আনন্দে ভরে যেত।ওই এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব আব্বাস আলী (১১০) বলেন, স্থানীয় ইউপি, উপজেলা পরিষদ ও সংসদ নির্বাচন আসলেই প্রার্থীরা রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ড, স্লুইজগেটসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু যারা নির্বাচিত হন পরবর্তী ৫ বছর তাদের আর দেখা যায় না এলাকায়।
আমি এই নদীতে একটি ব্রীজের দাবী করছি।
পাহারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আছিয়া খাতুন বলেন, জিঞ্জিরাম নদীর উপর বঁাশের সঁাকো দিয়ে শিক্ষার্থীসহ আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হই। সরকারের কাছে একটি ব্রীজের জন্য জোর দাবী করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েদ হোসেন, জানান, ওই এলাকার ব্রীজের জন্য সকল কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সরোয়ার রাব্বী (ভার:) বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ নিয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে এবং জনগণের স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.