হোম » সারাদেশ » বিগত বছরের তুলনায় ইজতেমায় বিদেশিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি

বিগত বছরের তুলনায় ইজতেমায় বিদেশিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি

আওয়াজ অনলাইন: বিশ্ব মুসলিম উম্মার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আসর ‘বিশ্ব ইজতেমা’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য মুসলিম আসে তুরাগ নদীর তীরে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি।  এবারের ইজতেমায় বিগতবারের তুলনায় বিদেশি মুসল্লির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

জানা যায়, ইজতেমা ময়দানে আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষীদের জন্য আলাদা আলাদা ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে।

 

দেশি-বিদেশি এ মুসলিমদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে ময়দানে। মুসল্লিদের পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সহায়তা করে যাচ্ছে তারা।

ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি অতিথিদের জন্য লোহার পাইপ ও টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিদেশি নিবাস। যেখানে রাখা হয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা।

এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশের প্রায় দেড় হাজার বিদেশি অতিথি ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থান নিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত বিদেশিরা আসবেন।

ভারত, পাকিস্তান, ইউএই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমারসহ এশিয়া,  আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকার মুসুল্লিরা বলছেন- এবারের  আয়োজনে ক্রুটি নেই।

নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশি অতিথিদের কোন ধরণের উদ্বেগ না থাকলেও তাদের নিবাসকে ঘিরে ইজতেমার নিজস্ব পাহারা রেখেছে আয়োজকরা।

এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, বিদেশি অতিথিদের জন্য তারা সব সময় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। অতিথিদেরে যাতে করে কোন অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

অতিথিরা যাতে নিরাপদে এয়ারপোর্ট থেকে ইজতেমা ময়দান পর্যন্ত আসতে পারেন এবং বাইরে প্রয়োজনীয় কাজ যেতে পারেন সেজন্যেও আয়োজকরা বিশেষ ব্যাবস্থা রেখেছেন।

গাজীপুরের টঙ্গী ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লি যারা আসেন তাদেরকে এয়ারপোর্টে আয়োজকরা রিসিভ করে থাকেন। বিদেশি মুসল্লিদের ইমিগ্রেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।

ইমিগ্রেশনে যেন কোনো জটিলতার সম্মুখীন হতে না হয়, আসার পথে তাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা যাতে সুগম হয় সেজন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ইজতেমার প্রথম পর্ব ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ১৫ তারিখ পর্যন্ত। আখেরি মোনাজাত হবে রোববার। এরপর ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় পর্ব।

দেশি-বিদেশি এ মুসলিমদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে ময়দানে। মুসল্লিদের পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সহায়তা করে যাচ্ছে তারা।

যারা বিদেশ থেকে আসছে ও এসেছে তারা যাতে কোনো রকম অসুবিধার সম্মুখীন না হয় তার জন্য সরকার ও ইজতেমা কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিশেষ সুবিধা দিয়েছে।

ইজতেমার ময়দানেই ওযু-গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন প্যান্ডেলে ক্যাম্প। পানাহার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারের ইজতেমাতে বহু বিদেশিদের আগমণের কারণ জানতে চাইলে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ জানান, বাংলাদেশ বিগত অনেক বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। বিদেশিরা বাংলাদেশের এই আয়োজনে মুগ্ধ ও কোনো ত্রুটি ধরতে পারিনি। এমনকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যই মূলত তারা ইজতেমায় আসতে পারছে।

ইজতেমা কর্তৃপক্ষ এসবের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ দেন। আগামীতে আরো বিদেশি মুসল্লি আসবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামীকাল আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার পর্ব। মুমিন বান্দাগণ আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে তাদের চাওয়া-পাওয়া, আল্লাহর করুণার আর্জি করবেন।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!