
আওয়াজ অনলাইন: প্রত্যেকটা দেশ বিভিন্ন উপায়ে নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। চীন নয়া অর্থনীতির সূচনা করে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অকেজো সম্পদকে মোডিফাই করার মাধ্যমে। প্লাস্টিক বর্জ্য চীনে একসময় অকেজো হয়ে নানা স্থানে পড়ে থাকতো। বর্তমানে এটাই তাদের অর্থনীতির অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশেও এ উদ্যোগ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এছাড়া অটোমোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এসব খাতের অন্যতম কাঁচামাল প্লাস্টিক।
প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নতুন করে প্লাস্টিক উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে নতুন নতুন পণ্য উৎপদানের।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, “বিটুমিন, ফুয়েল কিংবা কংক্রিট ব্লক যেটাই বলুন প্রচুর পরিমাণ আইটেম হয়। সরকার যদি দু’একটা পাইলট প্রজেক্ট করে দেখিয়ে দেয় যে বিনিয়োগ করলে রিটার্নটা ভালো। তাহলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে এবং আমাদের রি-সাইকিলিং দিয়ে নিত্যনতুন পণ্য উৎপাদন হবে।”
প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও মিথেন গ্যাস উৎপাদন করা যায়। আবার প্লাস্টিক থেকে তৈরি হয় সড়কের বিটুমিনও। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুলে প্লাস্টিক বর্জ্য দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়েজ্জম বলেন, “প্রনোদনা দেওয়া হয়ে থাকে এই প্রোডাক্টে, অর্থাৎ আপনি যদি রপ্তানি করতে তাহলে সুবিধাটি পাবেন। কিন্তু কোনো কোনো দরকার হচ্ছে উদ্যোগের শুরু থেকে তাকে সুবিধা দেওয়া।”
প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে এর সংগ্রহের পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বর্জ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া জরুরি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্লাস্টিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এজাজ আহমদ বলেন, “ময়লা হয়ে গেলো, ওটা যদি আমরা সংগ্রহ করতে পারি তাহলে ওটা থেকেও আরডিএফ, ফুয়েল বা রাস্তায়ও ব্যবহার করতে পারি। এই সম্পূর্ণ জিনিসটা বিনিয়োগের মাধ্যমে এটাকে তুলে আনতে।”
দেশ এবং অর্থনীতির কল্যাণে যেকোন ধরনের প্রকল্পের বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিবেচনা করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “পাইলট প্রজেক্ট সরকার নিতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাটা দরকার। যাতে পুরো জিনিসটা দেখতে পারি, একটু সময় নিতে হলেও যদি চূড়ান্ত জায়গায় যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে তাদের পুরো প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃউৎপাদন ও পরিশোধন করে অর্থনীতির গতিকে আরো বেগবান করা সময়ের ব্যাপার। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প এতে সহযোগিতার হাত বাড়ালে খুব দ্রুতই এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।