
এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়ক ও নৌ চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে। সড়ক, মহাসড়কে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যানগুলোকে হেডলাইন জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে আগুন জালিয়ে শীত নিবারণ করছে গ্রাম-গঞ্জের অসহায়
মানুষেরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারী) দুপুরে তাড়াশ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত সকর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, নদী অববাহিকা অঞ্চলগুলোতে ঘন কুয়াশা পড়েছে।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের কৃষক মান্নান শেখ (৫০) বলেন, কয়েকদিন ধরে খুব শীত পড়েছে। বিলাঞ্চলে আমার বাড়ি, রাত হলেই নদীর ঠান্ডা বাতাস শিনশিন করে গায়ে লাগে। গরীব মানুষ, টাকা পয়সা তেমন নাই। একারনে ছেলে মেয়েদের শীতের কাপড় কিনে দিতে পারি নাই।
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের কাটাঙ্গা ঘাট এলাকার নৌকার মাঝি আলী আশরাফ ও জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে নদী দিক ঠিক রাখা যায় না। অনেক সময় দিক ভুল হয়ে নৌকা চরে গিয়ে আটকে যায়। এই ঘাট থেকে শহরের মতি
সাহেবের ঘাটে যেতে আগে সময় লাগতো ৪০ মিনিট। এখন সময় লাগে ২ ঘন্টা।
চরের গোড়ার গাড়ি চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জিবিকা নির্বাহ করে থাকি। সংসার চালানোর জন্য তীব্র শীতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ঘোড়ার গাড়ি চালাই। দৈনিক আয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হলেও ঘোড়ার খাবারের জন্য ব্যয় করতে হয় ২৫০ টাকা। বাকি টাকায় চলে সংসার।
এদিকে, উত্তরের হিমেল হাওয়া ও শীতের তীব্রতা বাড়ায় জেলার নিম্নআয়ের মানুষজন পুরাতন কাপড়ের বাজারে ভিড় করছেন। শহরের নিউ মার্কেট এলাকার পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড়। এতে করে বিক্রি বেড়েছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
পুরান কাপড় কিনতে আসা রিক্সা চালক সুজাব আলী (৬০) বলেন, কঠিন ঠান্ডা পড়েছে। এতো ঠান্ডায় কাজ করতে পারি না। কনকনা শীতের কারনে সুইটার কেনার জন্য এসেছি। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছি না। শহরের নিউ মার্কেট এলাকার পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ী বাবু শেখ (২৫) বলেন, গত ১ সপ্তাহ ধরে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেনা বেচা বেড়েছে, দাম আগের মতোই
আছে।
কাওয়াকোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া মুন্সী বলেন, সরকারী বরাদ্দের ৪৯০টি কম্বলসহ ব্যাক্তিগত আরও ১০০ কম্বল শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, কয়েকদিনের তীব্র ঠান্ডার কারণে কৃষক ও শ্রমিকরা খেতে কাজ করতে না পারলে ফসলের ক্ষতি হবে। তবে অনেকে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত ফসলের কোন খয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৪৪ হাজার ১শ’ ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে আরও ১০ হাজার কম্বল জেলার ৭টি পৌরসভা ও ৮৩টি ইউনিয়নে ৪৯০টি করে কম্বল শীত নিবারণের জন্য বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২০ হাজার কম্বল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কম্বলগুলো হাতে পেলে পর্যায়ক্রমে শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।