পীরগঞ্জ প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা ১১নং বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার হিমুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহন করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন পরিষদের তিন নারী সদস্য সহ ১১ জন মেম্বার।
মেম্বারদের মূল্যায়ন না করা, সরকারি উপকারভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ করা ও একক ভাবে পরিষদ চালানো সহ নানা অনিয়ম উল্লেখ করে গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী আফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
আবেদনের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের স্বাক্ষরিত আবেদনে জানা যায়, জানুয়ারী/২২ হতে দায়িত্ব গ্রহনের হতে অদ্যবধি পরিষদের মাত্র একটি মাসিক সভা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় বাশতলী খেয়াঘাট ইজারার খরচ পিপিআর/২০০৮ এ্যাক্ট অনুযায়ী হয়নি এবং ইজারার তিন লক্ষ ষাট হাজার টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়নি। হাট-বাজার ইজারার হতে প্রাপ্ত অর্থ এবং জানুয়ারি/২২ হতে অক্টোবর/২২ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের পাঁচ লাখ নিরানব্বই হাজার চার’শ পয়ষট্টি টাকা কোন প্রকার ব্যাংক লেন দেন ছাড়াই চেয়ারম্যান আতœসাত করেছেন। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর এক হাজার দুই উনত্রিশ জন সুবিধাভোগীর তালিকা অন লাইন করার জন্য কার্ড প্রতি
৫০ টাকা করে উদ্যোক্তা আনছারুলের মাধ্যমে মোট একষট্টি হাজার চার’শ পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়ারম্যান উৎকোচ হিসেবে গ্রহন করেছেন।
কোন সভা ছাড়াই চেয়ারম্যান একক ভাবে সামাজিক বেস্টনীর আওতায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর সুবিধা ভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। কার্ড প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে কোন সভা না করেই ভিডবিউবি (ভালনারেবল ইউমেন বেনেফিট) কার্যক্রমের আওতায় ১ জানুয়ারি ২০২৩ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ চক্রের উপকারভোগীর তালিকা করেছেন চেয়ারম্যান।
সরকারি ভাবে উপজেলা পরিষদ হতে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন ধরনের মালামাল তিনি একাই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন।
মেম্বার ফারুক হোসেন জানান, চেয়ারম্যানের আনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আতসাৎ বিষয়ে গত ৫ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ১১ মেম্বার লিখিত আবেদন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার হিমু পরিষদের মেম্বারদের গালিগালাজ সহ নানা প্রকার হুমকি ধামকি দেন।
সার্বিক বিষয় নিয়ে গত শনিবার পরিষদের ১১ জন মেম্বার সভা করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সর্ব সম্মত ভাবে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহন করেছেন। অভিযোগ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার হিমু মোবাইল ফোনে বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব বিষয়ে তিনি এখনো কিছুই জানেন না। বিস্তারিত সাক্ষাতে বলবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নজির বলেন, মেম্বারদের একটা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যেই আবারও তাদের আরো একটি আবেদন পাওয়া গেছে।