প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:৩৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৩, ২০২২, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
![]()
এম এ রাশেদ: বগুড়ার ধুনটে কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের নিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীর পরিবর্তে কৃষক নন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা করে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানায়, চলতি রবি মৌসুমে খাদ্য শস্যসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় ধুনোট উপজেলার ১২ হাজার ১২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীর জন্য বিনামুল্যে উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, মুগ , মুসুর , সূর্যমুখি ও শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ ও রাসায়নিক সার বরাদ্দ দেওয়া হয়।
জানা যায়, ৪ হাজার ৩ শত জন কৃষকের জন্য ২ কেজি হাইব্রিড ধানের বীজ, ৩ হাজার ৫০০ কৃষকের জন্য উফশী জাতের ধানের ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ১০ কেজি এমপি মার, এক হাজার ২০০ জন চাষীর জন প্রতি এক বিঘা জমির জন্য ২০ কেজি গম বীজ, ১০কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার।
২ হাজার ৪০০জন চাষীর ১ কেজি সরিষার বীজ , ১০ কেজি ডিএপি ১০ কেজি এমওপি সার। ৬০০ জন কৃষক ২কেজি ভুট্টা বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ১০কেজি এমওপি সার। ৫০ জন কৃষক ৫ কেজি মুগডাল বীজ ১০ কেজি ডিএপি ৫ কেজি এমওপি সার । ২০ জন কৃষক ৫ কেজি মুসুর ডালবীজ ১০ কেজি ডিএপি ৫ কেজি এমওপি সার। ৪০ জন কৃষক ১ কেজি শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ১০ কেজি ডিএপি ১০ কেজি এমওপি সার এবং ১০জন কৃষককে ১ কেজি সুর্যমুখী বীজ ১০ কেজি ডিএপি ১০ কেজি এমও পি সারের জন্য নামের তালিকা উপজেলা কৃষি অফিস তালিকায় নিয়ে আসেন।
ওই তালিকায় উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীর পরিবর্তে কৃষক নন এমন ব্যক্তিদেরকে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ থেকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জানের কার্যালয় থেকে গম, সরিষার ও ভুট্টার বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে যাদের নামে গম, ভুট্টা ও সরিষার বীজ সহ সার বিতরণ করা হয়েছে তারা অনেকেই পাননি। উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি দিদার পাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী শাহানা খাতুন, একই গ্রামের দুলাল উদ্দিনের স্ত্রী হাওয়া খাতুন, ভুট্টো মিয়ার স্ত্রী মায়েদা খাতুন ও সোলায়মান আলীর স্ত্রী মিনি খাতুন জানান, তাদের নামে গমবীজ ও সার বরাদ্দ করা হয়।
বীজ সার নেওয়ার জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসে গেলে তাদের বিতরণের তালিকায় টিপ সহি নিয়ে গম বীজ ও সার না দিয়ে ফিরে দেওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের প্রবীন কৃষক আবুল হোসেন জানান, এলাঙ্গী ইউনিয়নের প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে গম চাষের জন্য সরকার বিনা মুল্যে বীজ ও সার দিয়েছেন ।
অথচ আমাদের ইউনিয়নে গম চাষের জন্য ১০০ বিঘা জমি নেই। এবিষয়ে এলাঙ্গী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, যারা বীজ ও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন, তারা নিজেরাই উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রি করেছেন। ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, আবাদী জমির ৭৫ ভাগই যমুনা নদীর পেটে। আমাদের ইউনিয়নে কৃষি প্রনোদনার ধান ,গম , ভুট্টা সহ অন্যান্য ফসলের বীজ ও সার যে পরিমান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে , চাষের জন্য ওই পরিমান জমি খুজে পাওয় যাবে না।
ধুনট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সারের জন্য তালিকা কৃষি অফিস করেছেন , তিনি শুধু স্বাক্ষর করেছেন। কারা বীজ সার পেয়েছে তা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই।
একই কথা জানিয়েছেন মথুরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান আহম্মেদ ও চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসানুল করিম।