হোম » সারাদেশ » ফসলী জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশংকা, সিরাজগঞ্জে অবাধে নিধন করছে শামুক

ফসলী জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশংকা, সিরাজগঞ্জে অবাধে নিধন করছে শামুক

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা বিলাঞ্চল থেকে বর্ষার পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি। তাই বিল পাড়ের মানুষেরা মাছ ধরার পাশাপাশি বিলাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে জাল দিয়ে অবাধে নিধন করছে ছোট-বড় শামুক। আর এ সমস্ত শামুক ব্যবহার করা হচ্ছে বিলাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসের খামার ও মাছের খাদ্য হিসেবে। এতে প্রতিদিন বিল পাড়ের মানুষেরা শতশত বস্তা শামুক বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। অপর দিকে প্রতিদিন শত শত বস্তা শামুক নিধন হওয়ার ফলে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি হুমকিতে পড়েছে বিলাঞ্চলের জীব বৈচিত্র।

এ ছাড়াও শামুক নিধনের ফলে বিলাঞ্চলের ফসলী জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুলন্নাহার লুনা। তাড়াশ উপজেলার বিলাঞ্চলে চলতি বছরে অন্যান্য বছরের ন্যায় গত প্রায় ২ মাস ধরে অবাধে শামুক নিধনের মহোৎসব চলছে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাবাসী। তারা আরো বলেন, বিলপাড়ের খেটে খাওয়া লোকজন বাড়তি উপার্জনের আশায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছোট -বড় নৌকা নিয়ে বিলের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে ডুবে থাকা ফসলী জমি থেকে মই জাল, হেসি জাল ও হাত জাল দিয়ে শামুক সংগ্রহ করছেন। সংগ্রহ করা নৌকা ভর্তি শামুক বিক্রির জন্য তাড়াশ উপজেলার দীঘি সগুনা বাজার, হামকুড়িয়া বাজার, মান্নান নগর চৌরাস্তা বাজারে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে শামুক ব্যবসায়ী পাইকাররা বস্তা ভর্তি শামুক কিনে বিলাঞ্চলের বিভিন্ন হাসের খামার, মাছ চাষকৃত পুকুরে বিক্রির জন্য নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় এলাকাবাসী বিলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি নৌকায় করে শামুক নিয়ে আসে দিঘীসগুনা সড়কে। তারপর শামুক বস্তায় ভর্তি করে ১১০ টাকা থেকে ১২০ দরে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করছেন তারা। আর ঐ শামুক ভর্তি বস্তা অটো ভ্যান, নছিমন সহ বিভিন্ন যান বাহনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এলাকার বিভিন্ন হাঁসের খামারে । যেন শামুকের হাট। শামুক সংগ্রহকারী তাড়াশের বিলনাদো গ্রামের আব্দুর রহমান প্রামানিক (৪৫) জানান, বর্ষায় বিলাঞ্চলে মানুষের কাজ-কর্ম তেমনটা থাকে না। তাই আমরা নৌকায় করে মইজাল, হেসি জাল ও হাত জাল দিয়ে শামুক সংগ্রহ করি। সংগ্রহ করা শামুক ব্যাপারীদের কাছে প্রতি বস্তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

শামুক ব্যাপারী উপজেলার কামারশোন গ্রামের মো. রিন্টু হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমে বিলাঞ্চলে ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এ সমস্ত জমিতে প্রচুর পরিমাণ ছোট, মাঝারী ও বড় শামুক পাওয়া যায়। আর সে শামুক সংগ্রহ করছে এলাকার লোকজন। প্রতি বস্তা শামুক একশ বিশ টাকা থেকে দেড়শ টাকা দরে কিনে এলাকার বিভিন্ন হাঁসের খামার ও মাছ চাষকৃত পুকুরের মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন দিঘীসগুনা শামুক বিক্রির আড়ত থেকে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে। তারা এখান থেকে ভ্যান ও পিকাপ গাড়ীতে শামুক গুলো নিয়ে যায়।

উপজেলার সেরাজপুর গ্রামের হাঁসের খামারী মো. আব্দুল জলিল বলেন, এ মৌসুমে প্রতি বছর বিল এলাকা থেকে হাঁসের খাবারের জন্য শামুক কিনে আনা হয়। শামুক হাসের জন্য খুবই পুষ্টিকর খাদ্য। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুলন্নাহার লুনা জানান , বর্ষার শেষে পানি কমার সাথে সাথে এই শামুক গুলো বেশিরভাগ মারা যাওয়ায় কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কিন্তু শামুক নিধন প্রতিরোধে কৃষি বিভাগের তেমন কোন দিক নির্দেশনা নাই। তারপরও পরিবেশের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সে দিক থেকে বিষয়টি দেখা হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!