
ঘুড়কা ইউনিয়নের শ্যামনাই গ্রামের চুলায় কর্মরত শ্রমিক আকবর আলী জানান, ইট ও মাটি দিয়ে তৈরী এসব চুলার ভিতরে ১৮০ থেকে ২০০ মণ খড়ি সাজিয়ে দিয়ে আগুণ দিতে হয়। এরপর চুলার চারপাশ বন্ধ করে ধুয়া বের হওয়ার জন্য চুলার উপরিভাগে কিছু ছিদ্র রাখা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বের হতে টানা ১২ দিন সময় লাগে। এরপর তৈরী হওয়া কয়লা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। টিন ফ্যাক্টরী, বার-বি-কিউ ও নান রুটির দোকান, কামার এবং স্বর্ণকারেরা এসব কয়লার ক্রেতা। ঘুড়কা এলাকায় ১ বছর এবং শ্যামনাই গ্রামে ১ মাস যাবত এ কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কয়াবিল গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আবুল হোসেন বলেন, সরকার জনগনকে নির্দেশ দিয়েছে গাছ লাগানোর, আর এরা আশপাশের এলাকা থেকে গাছ কেটে এনে পুড়িয়ে কয়লা তৈরী করে বিক্রি করছে। যে ভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে গাছপালা তো আর থাকবে না। এছাড়াও ধুয়ার কারনে আশপাশের ক্ষেতের ফসল ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে জনগন ও দেশের ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জের বাসিন্দা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পরিচালনা বোর্ডের সদস্য কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট বলেন, জলবায়ু পরিবর্তণের কারনে সারা পৃথিবী বর্তমানে আতংকগ্রস্থ। খড়িতে পোড়ানো এবং ধুয়া অবশ্যই পরিবেশ ও উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর। এই ধুয়ার ক্ষতি অল্প সময়ে বোঝা না গেলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির বড় কারণ। দ্রæত সময়ের মধ্যে এসব চুলা বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রæতি দেন তিনি।
এ বিষয়ে পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নান্নু ও ঘুড়কা ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই, তবে দ্রæত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধিরা।
সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর জানান, এসব চুলা স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। আপনার মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানলাম। দ্রæত ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে গাছ পোড়ানোর বিষয়টি দেখবে বনবিভাগ।
তবে রায়গঞ্জ সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান জানান, চুলায় কাঠ পুড়িয়ে বানিজ্যিক ভাবে কয়লা তৈরীর করলেও সেটা বন্ধে বন বিভাগের কোন আইন নাই। আমরা শুধু ভাটায় গাছ পোড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থায় নিতে পারি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃপ্তি কণা মন্ডল বলেন, চুলা তৈরী ও বানিজ্যিকভাবে কয়লা তৈরীর বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে চুলা বন্ধে অভিযান চালানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ বিষয়ে চুলার মালিক সিরাজগঞ্জ শহরের ধানবান্দি মহল্লার পল্টু চৌধুরী ও রায়গঞ্জের শ্যামনাই এলাকার আব্দুল আলিম বলেন, আমরা যৌথ মালিকানায় দুটি স্থানে চুলায় খড়ি পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর ব্যবসা করছি। বর্তমানে ভাটাগুলোতে খড়ির চাহিদা বেশি, তাই গাছ খড়ির সংকট চলছে। যে কারনে চুলায় কয়লা তৈরী কিছুদিন বন্ধ রাখার সিদ্বান্ত নিয়েছি। এ সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও করেন তারা।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান