প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ১১:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৭, ২০২২, ৮:৩৫ পি.এম
জামালপুরের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে হয়রানীর করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রবিউল হাসান লায়ন: জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে মেরে ফেলার মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও ভোক্তভোগী পরিবারকে হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের ভাদুড়ীপাড়া গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভোক্তভোগীদের পরিবারের লোকজন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফরহাদের পিতা আব্দুল জলিল লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ আগষ্ট মেষ্টা ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকার মৃত তুফাজ্জল হোসেনের ছেলে সেলিম মিয়ার স্বাভাবিক ভাবেই মৃত্যু হয় এবং পরদিন সকালে মুসলিম নিয়ম মোতাবেক এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে জানাজা শেষ করে পারিবারিক ভাবে দাফন করা হয়। সেলিম মিয়ার দাফনের পর তার পরিবারের লোকজন জানতে পারে যে, ওই রাতে সেলিম মাত্রারিক্ত যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবনের পর স্ট্রোক করে মৃত্যু বরণ করে।
বিষয়টি সম্মানে আঘাত হানীকর বিধায় এ বিষয়টি গোপন রাখে সেলিমের পরিবারের লোকজন। যেহেতু সেলিম নিজেই গোপনে যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবন করে মৃত্যু বরণ করে তাই তার মৃত্যুর ঘটনায় অন্য কেউ দায়ী থাকার কথা নয়। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হবার পর, গত কয়েকদিন আগে ওই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে ফরহাদ আলী, চান মিয়ার ছেলে মমিন, আলাউদ্দিনের ছেলে মোজাফ্ফর, সৈয়দ আলীর ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ও জামিরাচরের নুরে আলমের নাম উল্লেখ করে সেলিমকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে স্থানীয় একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তাদেরকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানী করার জন্য করা হয়।
সংবাদ প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত সেলিমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় বা আদালতে কোন প্রকার অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের হয়নি। এ মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্থানীয় এলাকায় লোক মুখেও কোন প্রকার গুঞ্জন শোনা যায়নি। তাহলে হঠাৎ করে এমন সংবাদ কিভাবে সংবাদ দাতা প্রকাশ করলো তা বোধগম্য নয়। শুধু তাই নয়, সংবাদ প্রকাশের পর হতেই মৃত সেলিম মিয়ার স্ত্রীকে বারবার হত্যা মামলা দায়ের করার জন্য চাপ দিচ্ছে ওই সংবাদদাতা।
আব্দুল জলিল আরও বলেন, মৃত সেলিম মিয়া আমাদের এলাকারই ছেলে। আমার ছেলেসহ আমরা বেশিরভাগ সময় এক সাথেই চলাফেরা করেছি। কোনদিন সেলিমের সাথে আমাদের কোন বিষয় নিয়ে কোন প্রকার কলহ হয় নি। সংবাদদাতার এমন নিজের খেয়াল খুশি মতো সংবাদ প্রকাশ অবশ্যই আইন অবমাননাকর ব্যাপার।
এ বিষয়ে মৃত সেলিম মিয়ার শশুর সুরুজ মিয়া বলেন, আমার জামাইকে কেউ মেরে ফেলেছে বলে এ পর্যন্ত শুনি নাই। তবে সেদিন কিসের জানি ঔষধ খাইয়া প্রেশার উঠছিলো। আমি আর কিছু জানিনা।
মেষ্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক বাবু বলেন, বিষয়টা প্রায় দুই মাস আগের। ওই সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। তবে শুনছি যৌন উত্তেজক ঔষধ খাওয়ার পর স্ট্রোক করে মারা গেছে সেলিম। তখন এ বিষয়ে কারও কোন অভিযোগ ছিলো না। এতদিনে সন্দেহ করে হয়তো এসব কিছু করতে পারে। জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করে নি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.