প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ৭:৫৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৩, ২০২২, ৭:১১ পি.এম
ভৈরবে নেশার টাকা জন্য গৃহবধূকে খুন।। থানায় অভিযোগ না নেয়ার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ।।

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ভৈরবে নেশার টাকা নামারধর করে হাজেরা বেগম নামের এক গৃহবধূ হত্যা ক করেছে আরিফ নামে এক যুবক। আরিফ জগ্নাতপুরের আশু মিয়ার পুত্র বলে জানা যায়। আরিফ গত শুক্রবার রাতের বেলা টাকার নেশার টাকার জন্য হারেরা বেগম ও তার চার ছোট ছোট সন্তান কে মারধর শুরু করে। এতে হাজেরা বেগম বাধা দিলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর শুরুকরে। এতে করে তিনি মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে পড়ে।পরে তাদের ডাক চিৎকারে আরিফ পালিয়ে যায় এবং এলাকাবাসী তাকে স্থানীয় আলশেফা হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে
গতকাল শনিবার রাত ১০ টার দিকে মুমর্ষ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে পথিমধ্য মারা যায়। গত শুক্রবার ঘটনার পর আহত হাজেরা বেগম ভৈরব থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ করলে পুলিশ তার মামলা না নিয়ে গরিমসি করে বলে পরিবারের অভিযোগ। তারপর শনিবার হাজেরা বেগম মারা যাওয়ার পর পুলিশ মামলা গ্রহন করে।
দিকে। গৃহবধূ শনিবার রাতে মারা যাওয়ার পর পুলিশ রাতেই হত্যা মামলাটি গ্রহন করে। মামলায় ৪ জনকে আসামী করা হয়। আসামীরা হলো গৃহবধূর প্রতিবেশী আরিফ মিয়া (২৩), তার পিতা আশু মিয়া (৫৫), ভাই রকি মিয়া (২৪), মা পারভিন বেগম (৪৫)। আজ রোববার দুপুরে নিহতের লাশ ময়না তদন্তের পর ভৈরবে এনে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব পৌর শহরের জগনাথপুর গ্রামের প্রবাসী রমিজ উদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা বেগম। তার প্রতিবেশী আরিফ মিয়া। ঘটনার পর পর আরিফ পালিয়ে যায়।পরদিন শনিবার হাজেরার অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়। হাজেরা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ভারপ্রাপ্ত ওসি) শাহ আলম তড়িঘড়ি করে শনিবার রাত ১২ টার পর হত্যা মামলাটি গ্রহন করে।
নিহত হাজেরা বেগমের জামাতা উজ্জল মিয়া জানান, গত শুক্রবার ঘটনার পর রাতেই আমি আমার আহত শ্বাশুড়িকে নিয়ে থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ করি। কিন্ত থানার ওসি শাহ আলম আমার মামলাটি গ্রহন করেনি। তখন আমার শ্বাশুড়ি হাজেরা বেগমের অভিযোগ গ্রহন করে আসামীদের গ্রেফতার করতে পারত। এখন তারা পালিয়েছে। এলাকার কাউন্সিলর ফজলু মিয়া বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। আরিফের পুরা পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
মামলার বাদী নিহতের মেয়ে রোকসানা আক্তার বলেন, আমার মা আহত হয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ করল কিন্ত পুলিশ অভিযোগটি আমলে নেয়নি। এখন আমার মা মারা যাওয়ার পর পুলিশ মামলা নিল। আমার মায়ের হত্যার কঠোর বিচার দাবি করছি।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) শাহ আলম জানান, হাজেরা বেগম মৃত্যুর আগে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি। ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছে, যা বাদী অভিযোগ করেছে এপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিষয়টি ডিউটি অফিসার আমাকে জানায়নি। তবে ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা করছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.