
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে ভোট আদায়ের কৌশল হিসেবে আগের রাতে ভোটারদের জাল টাকার বান্ডিল দিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বিজয়ী প্রার্থী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে। গত (১৭ অক্টোবর) জেলা নির্বাচনে জাল টাকা দিয়ে কৌশলে ভোট ক্রয় করেছেন এমন অভিযোগ তুলেছেন প্রায় ৭ ইউপি সদস্য।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী প্রার্থী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে নকল টাকা সরবরাহ করে ভোট কেনার গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য ভোটার নকল টাকা চালাতে না পেরে আক্ষেপ করেছেন। ফেঁসে যাবার ভয়ে অভিযোগ দেননি কেউই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও দু’একজন মন্তব্য করেছেন। রায়গঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সেখ মোস্তফা নুরুল আমিন (১৭ অক্টোবর) সোমবার ফেসুবুকে লেখেন, জেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে রায়গঞ্জের এক সদস্য প্রার্থী জেলা পরিষদ নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট আদায়ের কৌশল হিসেবে তালিকাভুক্ত ভোটার অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের টাকার বান্ডিল দিয়েছেন গত রাতে।
ভোট দিয়ে কিছু কেনাকাটা আর ফুর্তির জন্য বের হন তারা। কিন্তু পরখ করে দেখেন রাতের অন্ধকারে কেনা-বেচার সব টাকাই জাল। কয়েক মেম্বার তাদের সেই প্রার্থীকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জাল নোট যার কাছে পাওয়া যাবে তাকেই কিন্তু পাকড়াও করবে পুলিশ। এ কথা শুনে স্তব্ধ হন তারা। ভোট কেনা-বেচার বাজারে এভাবে কত কিছুই না ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভোটার বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগের দিন রাতে তাদের ওই প্রার্থী নিজ হাতে টাকার বান্ডিল বিতরণ করেছেন। এই টাকা ভোটের আগে যেন খরচ না করা হয়। খরচ করলে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হবে। এতে তার ক্ষতি হবে। পরে সেই কথা অনুযায়ী ভোটের আগে টাকাগুলো খরচ করিনি। ভোট দেওয়ার পর স্থানীয় ধানগড়া বাজারে গেলে দোকানদার টাকা হাতে নিয়ে উল্টিয়ে দেখে বলে এগুলো জাল নোট। এরপর টাকাগুলো নিয়ে প্রার্থীর কাছে গেলে তিনি পুলিশে ধরিয়ে দেবেন বলে নানা ভয়ভীতি দেখান।
অভিযুক্ত প্রার্থী সুমন সরকার রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য পদে (বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এরআগেও তিনি জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। আমি নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিপক্ষরা এমন মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি কোনো ইউপি সদস্যকে জাল টাকার বান্ডিল দেননি।
ওই ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, জালনোটের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। তবে কে কাকে জাল টাকার বান্ডিল দিয়েছে সেটা জানা নেই। রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাদি আলমাজি জিন্নাহ বলেন, মূলত প্রক্রিয়া করেছি নারী ভোটার সংগ্রহে। এবার পুরুষ ভোটারদের নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথাই ছিল না। অর্থ খরচের বিষয়টিও অমূলক।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি দ-নীয় অপরাধ। তবে আমরা এই বিষয়টি অবগত নই। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, জাল নোট
দিয়ে ভোট কেনাবেচার বিষয়ে কেউই জানায়নি বা অভিযোগও দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান