প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৮, ২০২২, ৩:০৫ পি.এম
গাবতলী তে অরক্ষিত রেলক্রসিং ঝুঁকিতে ৭ গ্রামের মানুষ !!

বিপ্লব রহমান: বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা হাট সংলগ্ন ইছামতী নদীর উপর অবস্থিত বাহাদুরপুর রেলব্রীজ এর সন্নিকটে নাড়ুয়ামালা রেলক্রসিংটি এখন মৃত্যু যেন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ গ্রামের সাধারণ জনগন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী নাড়ুয়ামালা হাটের কোলঘেষে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীর উপর অবস্থিত নাড়ুয়ামালা রেলব্রীজটির সন্নিকটে নাড়ুয়ামালা থেকে বাহাদুরপুরগামী রাস্তার মধ্য দিয়ে রেলপথ চলে গেছে। এই রেলপথের পুর্বপাশে রয়েছে ৭টি গ্রাম। গ্রাম গুলো হলো,বাহাদুর পুর. আকন্দপাড়া, রহিমের পাড়া, আদুর বাজার, নয়াপাড়া, ধনঞ্জয় ও ডওর। নাড়ুয়ামালা হাট, গাবতলী সদর সহ বগুড়া শহরে আসতে গেলে এই সকল গ্রামের বাসীন্দাদের এই রেলক্রসিং পার হয়েই প্রধান সড়কে আসতে হবে। কিন্তু এই রেলক্রসিংটিই এখন তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা অটোরিক্সা চালক আব্দুল মতিন জানান, "হামরা এই রাস্তা দিয়ে অটো চালিয়ে ভাড়া মারি। কিন্তু হামরা এই রেলক্রসিং পার হবের লিয়ে খুব ভয়ে থাকি কখন বেন কি হয়"। নাড়ুয়ামালা হাটের পল্লী চিকিৎসক ও বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালেক বলেন, " এমন কোন বছর নাই যে এইখানে এক্সিডেন্ট হয়না। কেউ না কেউ প্রতিবছর মারা যাবেই। সেজন্য এইখানে অতিদ্রুত একটু রেলগেইট আবশ্যক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরেই রহিমারপাড়া গ্রামের ২ জন মানুষ রেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ১ জন আহত ও আরেকজন নিহত হয়ে প্রাণ হারান। এছাড়াও গতবছর একই স্থানে ৫ জন ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়ে প্রান হারায়। যাদের মধ্য কেউবা ছিলো হিন্দু আর কেউবা ছিলো মুসলমান। ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের শরীর থেকে মাংস গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এই রেলপথে দিনে বহু মানুষ পারাপার করলেও তাদের রয়েছে প্রাণের ঝুঁকি। তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে।
কৃষিকাজ করা বৃদ্ধ আব্দুর রহমান এই প্রতিনিধিকে বলেন," বাবা হামরা যখন এই রাস্তা পার হই তকন সবদিকি তাকে পার হই। তাও ভয় লাগে ককন বেন গাড়ি আসে। ককন বেন কি হয়। তাও জীবনে বাচতে গেলে চলাফেরা করায় লাগে বাপু"। অপরদিকে বায়োইটোনা গ্রামের শাহিনুর রহমান জানান, " ৭টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পথ এই একটায়। সেজন্য ভয় ঝুঁকি থাকার পরেও এই রাস্তা দিয়েই আমাদের সবাইকে চলাচলা করতে হয়। কমলমতি ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যেতে বের হলে অভিভাবকরা ভয়ে থাকে। এইখানে বারবার এক্সিডেন্ট হলেও কেউ কোন দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেনি"।
নাড়ুয়ামালা গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলি বলেন, আর কত প্রাণ ঝরে পড়লে এইখানে একটি রেলগেট হবে?? আর কত মানুষ অকালে মারা গেলে সরকারের নজর এইখানে আসবে?? আর কত মায়ের বুক খালি হলে এইখানে একটি রেলগেইট নির্মান করা হবে?? তিনি অতি দ্রুত, উক্ত স্থানে একটু রেলগেইট সহ গেইটম্যান রাখার জন্য রেল মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।এ ব্যাপারে গাবতলী ইষটেশন মাষ্টার মোঃ ইমারুল কায়েসের সাথে কথা বললে তিনি জানান বাহাদুরপুর রেলক্রসিং গেট না থাকায় অনেক দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে অনেক পরিবার ও বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকিতে থাকে এ বিষয়টি আমরা অবগত .বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.