
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রানীনগরে এক দাগে জমি কিনে জোর পূর্বক অন্য দাগের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রানীনগর উপজেলার বালুভরা মৌজার পশ্চিম বালুভরা গ্রামে গত ১৭জুলাই সন্ধ্যায় এঘটনা ঘটে। এঘটনায় ভুক্তভোগী মোফাচ্ছের হোসেন নওগাঁ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কেএম তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মোফাচ্ছের হোসেন উপজেলার পশ্চিম বালুভরা গ্রামের সজলের নিকট থেকে ওয়ারিস সূত্রে পাওয়া আরএস খতিয়ান নং-৬৪৪ হাল ২৪৩ দাগে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে খাজনা খারিজ করে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছেন।
এমতাবস্থায় একই দাগের পশ্চিম পাশের জমির মালিক একই গ্রামের বাছের আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন, রেজাউল, ছহিম এর ছেলে বজলু হোসেন এবং রানীনগর মাছবাজার এলাকার মৃত ডাঃ আবুল হোসেন এর ছেলে হাসান আলীসহ বেশ কয়েকজন ১৭জুলাই রাতে ইট নিয়ে এসে মোফাচ্ছের হোসেনের কেনা সম্পত্তিতে প্রাচীর দিয়ে দখল করার চেষ্টা করে। ঘটনার খবর পেয়ে তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে তার জমিতে ইট ফেলার কারন জানতে চাইলে তারা তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এঘটনায় স্থানীয় ভাবে শালিশ দরবার বসলেও ঘটনার কোন সুরহা হয়নি। উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী মোফাচ্ছের হোসেন ৫জনকে আসামী করে নওগাঁ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী মোফাচ্ছের হোসেন বলেন, এখানে মোট ১২শতক বিভন্ন ওয়ারিসান জমি এর মধ্যে সজল দিং এর নিকট থেকে পশ্চিম সাইডের মধ্যাংশে ৫শতক জমি আমি কিনে নেই। এর পর শান্তিপূর্নভাবে আমি ভোগ দখল করে আসছি।
এর আগে মুক্তার এখানে পশ্চিম সাইডে জমি কিনে সেও ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে ১৭ জুলাই মুক্তার তার দলবল নিয়ে এসে আমার জমিতে ইট ফেলে প্রাচীর দেয়ার চেষ্টা করে। আমি বাঁধা দিতে গেলে আমাকে প্রাননাশের হুমকি দেয় তারা ভয়ে আমি সেখান থেকে চলে এসে কোটে মামলা দায়ের করেছি। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে কাজ না করার জন্য বলে গেছেন। কিন্তু বর্তমানে আমি শঙ্কায় আছি যে কোন সময় তারা আমার জমি দখলসহ আমার উপর হামলা করতে পারে।
মামলার সাক্ষী পশ্চিম বালুভরা গ্রামের রুহুল কুদ্দুস ও কে এম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, একই জায়গাতে দুইপক্ষ জমি কিনে এটা নিয়ে একটা গেঞ্জাম হয় এরপর বিষয়টি নিরসনের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে গ্রাম্য শালিশ বসানো হয়। কিন্তু কোন পক্ষই মানেনা কিছু। একপর্যায়ে মুক্তারের পক্ষের লোক বজলু, হাসান এরা খুব উত্তেজিত হয়ে যায় মারমুখী আচরন করে। এরা দু’জন এর আগেও শুধু শুধু মানুষের মাঝে ঝামেলার সৃষ্টি করেছে। যে কোন বিচার সালিশে উপস্থিত হয়ে একটা পক্ষ নিয়ে গেঞ্জাম সৃষ্টি করে। এঘটনায় অভিযুক্ত মুক্তার হোসেনের নিকট ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন।
অভিযুক্ত হাসান ও বজলু বলেন, সে মামলা দিছে দিক আমরা চেলেঞ্জে যাবো। আর সেদিন কোন মারামারি বা গন্ডোগোল হয়নি। আমরা যদি মারামারি করার উদ্দেশ্যে যেতাম তাহলে সে দাঁড়াতেই পারতনা। মামলাতে যা লিখছে সব মিথ্যে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি সেদিন। জমি বিক্রেতা সজল হোসেন বলেন, আমি ৫শতক জমি পশ্চিম সাইডে মোফাচ্ছের হোসের নিকট বিক্রি করেছি। যেহেতু মুক্তার ঐ জমির ওয়ারিস তার ২শতক জমি আছে সেখানে তাহলে আগে সে সাইড বুঝে নিতে চায় নিবে তারপর এরা জমি পাবে।