প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ১১:৩৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২২, ৪:০৫ পি.এম
গভীর নলকূপ দ্বারা পানি সরবরাহ বগুড়ার শিবগঞ্জে ভরা বর্ষায় বৃষ্টি না হওয়ায় বীজতলা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ষড় ঋতুর দেশ। ঋতু ভেদে এদেশের কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমে নানা রকম ফসলাদি চাষ করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছে। এখন চলছে আষাঢ় মাস। এ মাসে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি নামে। কিন্তু আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধান চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে শিবগঞ্জের কৃষকেরা। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত । এ উপজেলায় কৃষকরা সাড়ে ৮’শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরী করেছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। এ উপজেলার কৃষকদের প্রধান ফসল ধান কিন্তু সময় মতো বীজতলা তৈরী না করলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমন ধানের চারা সময় রোপন করা সম্ভব হবেনা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
প্রচন্ড তাপদাহের ফলে উপজেলার আমন ধানের বীজতলা পুরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এর ফলে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত বীজতলা রক্ষার জন্য গভীর নলকূপ ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সেচ প্রদান করছেন । গতকাল শনিবার সরেজমিনে, শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মীরেরচক মাঠে গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষকদের বীজতলায় পানি দিতে দেখা গেছে। গভীর নলকূপের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের বীজতলা পুরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বীজতলা রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপ চালু করতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার নলকূপ থেকে প্রায় শতাধিক কৃষকের বীজতলায় পানি সেচ প্রদান করছি।
মীরেরচক গ্রামের কৃষক সোহেল হোসেন, ছাইফুল ইসলাম মিঠু, দেলোয়ার হোসেন, দুদু মিয়া ও পান্না হোসেন বলেন, আষাঢ় মাসে বৃষ্টির পরিবর্তে এতো রোদের তাপ আমাদের জীবনে কখনো দেখিনি। আমরা আমন ধানের বীজতলা রক্ষার জন্য বিকল্প হিসেবে গভীর নলকূপদ্বারা পানি দিচ্ছি। তারা আরো বলেন, আকাশের বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমাদের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে । ফলে আমরা সময় মতো জমিতে চাষ দিতে পারছি না। এব্যাপারে তেঘরি গ্রামের কৃষক সামছুল ইসলাম, ভাসুবিহার গ্রামের ইব্রাহীম হোসেন বলেন, প্রচন্ড তাপদাহের কারণে আমাদের আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মুজাহিদ সরকার বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ৮ শত হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরী করেছেন কৃষকরা। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা যাতে চারা সংরক্ষণ করতে পারে সে লক্ষ্যে অফিস বন্ধের দিনেও আমি সহ ইউনিয়ন সুপার ভাইজারদের সঙ্গে নিয়ে সার্বক্ষনিক ভাবে কৃষকদের কাছে গিয়ে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.