
রবিউল হাসান লায়ন: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন। ভাঙ্গনের প্রকোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী মানুষ। গত কয়েক সপ্তাহের ভাঙ্গনে উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ হয়েছে বসতভিটা হারা। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও স্রোতের কারণে ভাঙ্গন বেড়েছে বলে দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্ট্রিত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা। প্রতিবছর বন্যার পাশাপাশি নদ-নদীর ভাঙ্গনের স্বীকার এ উপজেলার মানুষ। বন্যার সময় পানি বাড়া ও কমার সাথে সাথে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদ-নদীর তীরবর্তী বসবাস করা এসব মানুষ। এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয় । অব্যহত ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে পলবান্ধা ইউনিয়নের উত্তর সিরাজাবাদ, দক্ষিণ সিরাজাবাদের নয়া বাড়ি, পূর্ব বাহাদুরপুর, চর চাড়িয়া, গায়েন পাড়া, মোহাম্মদপুর এলাকায়। ভাঙ্গন বাড়তে থাকায় উত্তর সিরাজাবাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৮ টি ঘরও বর্তমানে হুমকির মুখে। যে কোন সময় ভাঙ্গণের কবলে পড়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব পরিবার আবারও সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে পারে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো টিন, কাঠসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে ঠায় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার পাশে। যাদের কিছুটা সামর্থ্য আছে তারা ওই সড়কের ওপরেই নতুন করে কোনমতে ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে।
ভাঙ্গনের স্বীকার পরিবারগুলো জানায়, বেশ কয়েক বছরের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের ফলে তাদের বসত-বড়ি, ফসলি জমিসহ যবতীয় কিছু এখন নদের গর্ভে। তারা সব সহায় সম্বল হারিয়ে আজ নিঃস হয়ে গেছে এবং সর্বশেষ ঠাই হয়েছে রাস্তায়। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা পায়নি তারা। পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে অত্র ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবার আজ সব হারিয়ে পথে বসেছে। ধীরে ধীরে এ নদ ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে। খুব দ্রুত এ নদের ভাঙ্গনের পাশে পাইলিং না করলে সম্পূর্ন ইউনিয়ন নদে বিলীন হবে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে জামালপুরে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্রোত অনেক বেড়ে গেছে। যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জরুরী ভিত্তিতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন ঠেকিতে এবং ভাঙ্গনের কবল থেকে ফসলি জমি, বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষায় এগিয়ে আসবে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই দাবী পলবান্ধা ইউনিয়ন বাসীর।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল