প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৬:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২০, ২০২২, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮সেন্টিমিটর উপরে

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮সেন্টিমিটর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন। সোমবার (২০ জুন) দুপুর ১২টা থেকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২দশমিক ৮৮সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২দশমিক ৬০সেন্টিমিটর) বিপদসীমার ২৮সেন্টিমিন্টার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুন) ভোর থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচে থাকলেও সকাল ৯টার পর থেকেই বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ এবার বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন। পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার প্রায় ৫হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা ইউপির প্রায় ৫হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি, তিস্তায় বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউয়ের ফলে পানির প্রবাহ বেড়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখা। আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, প্রতি বছর তিস্তার পানির কারণে এ জেলার লোকজন ক্ষতির মুখে পড়েন। জেলা প্রশাসন পানিবন্দি পরিবারের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে বলেছে। তালিকা পেলে বরাদ্দ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানির প্রবাহ রাত থেকে বাড়তে থাকে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতে পানির প্রবাহ কমে গেলে তিস্তার পানি কমে।
এদিকে ধরলা, রত্নাই, স্বর্ণামতি, সানিয়াজান, সাকোয়া, চাতলা, মালদহ, ত্রিমোহীনি, মরাসতি, গিরিধারী, গিদারী, ধোলাই, শিংগীমারী, ছিনাকাটা, ধলাই ও ভেটেশ্বর নদীতে বন্যার পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী ইউনিয়ন উক্ত নদীর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ভেঙ্গে গেছে বাড়ী-ঘর।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.