প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩০, ২০২২, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দাগনভূঞায় রাজাপুরে বোর্ড অফিস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত-৫

দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি: দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে ২৯ মে রোববার রাজাপুর বাজারে মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দেশব্যাপী বিএনপি’র নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিল বের করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সূত্রপাত হয়। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে রাজাপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় না থাকায় রাজাপুর বাজারের ভাড়া ভবনেই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় চলছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মামুন। তিনি রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় কোরাইশ মুন্সি বাজার স্থানান্তর করছেন এমন গুজব উঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এই ইউনিয়নের জনগণ। তারা আজ রোববার বিকেলে রাজাপুর বাজারে বোর্ড অফিস কোরাইশমুন্সি স্থানান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন এর আয়োজন করে।
বেলা সাড়ে চারটার দিকে মানববন্ধন চলাকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দেশব্যাপী বিএনপি’র নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিল বের করলে মোটর সাইকেল বহর জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিতে দিতে মানববন্ধনের ভিতরে প্রবেশ করে বাজারের অপর প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপে অন্তত ৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। পরে ৬-৭ যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে পুলিশ উদ্ধার করে নিরাপদ থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে- কোরাইশমুন্সি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে ফোর্সসহ উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি, তিনি নির্লিপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বেলা পাঁচটার দিকে দাগনভূঞা থানার ওসি হাসান ইমাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চুটে আসেন ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মামুন। তিনি সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, রাজাপুর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস রাজাপুরে থাকবে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোনো কুচক্রী মহল এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করছে। সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
স্থানীয় আবুল কালাম পাটোয়ারী জানান, রাজাপুর ইউনিয়ন বোর্ড অফিস ১৯৬৫ সালে চৌধুরী বাড়ির দরজায় নিজস্ব ভবনে নিজস্ব জায়গায় স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় রাজাপুর বাজারে অস্থায়ী কার্যালয়ে কার্যক্রম চালু করা হয়। বোর্ড অফিস থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য বার বার চেষ্টা করা হয়েছিল স্থানীয় জনগণ সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছিলো। এখন আবার নতুন করে চেষ্টা শুরু হয়েছে। রাজাপুর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস রাজাপুর বাজারে ছিল রাজাপুর বাজারে থাকবে এখানে বোর্ড অফিসের জায়গা আছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি হাসান ইমাম জানান, মানববন্ধন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্চিলো, তবে শেষ পর্যায়ে মিছিল প্রবেশ করলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মোটর সাইকেল ভাংচুরসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.