
রাকিবুল হাসান রাকিব, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে জমাজমি সংক্রান্ত জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজ শয়নকক্ষে গলা কেটে গৃহবধূ শিপন আক্তারকে (৪৫) হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন ঘাতক স্বামী ও তার গর্ভের বড় সন্তান। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে দুধাইল-নয়াড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ঘাতক স্বামী কালাই উপজেলার ঐ গ্রামের মৃত আলেক উদ্দিন সরকারের ছেলে তোজাম হোসেন সরকার (৫২) এবং গৃহবধূর গর্ভের বড় ছেলে শিহাব উদ্দিন (২০)।
গতকাল রোববার (২৯ মে) বিকেলে জয়পুরহাট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট ১ম আদালতের বিচারক আতিকুর রহমানের কাছে পিতা ও পুত্র তাদের হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং রাতেই ১৬৪ ধারায় পিতা পুত্রের হত্যাকান্ডের বিষয়ে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ খাঁন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭/৮ বছর পূর্বে প্রতিবেশী আয়নাল হকের ছেলে আহসানের নিকট থেকে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন নিহত গৃহবধূর স্বামী তোজাম হোসেন সরকার। তখন থেকে অদ্য পর্যন্ত ওই জমির দলিল হয়নি। বর্তমানে জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতা সেই জমি দলিল করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বেশকিছু দিন ধরে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে। জমি উদ্ধার এবং প্রতিবেশীসহ আরও বেশ কয়েকজনকে উচিত শিক্ষা দিতে গৃহবধূকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার স্বামী তোজাম ও সন্তান।
যথারীতি শুক্রবার রাতে খাবারের পর ঘরের দরজা খোলা রেখে গৃহবধূ শিপন আক্তার তার ৮ বছর বয়সের ছোট ছেলে তুহিনকে নিয়ে নিজ শয়নকক্ষে শুয়ে পড়েন। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় ছেলে শিহাব ও তার বাবা অন্য একটি ঘরে শুয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময়ে বাবা ও ছেলে মিলে গৃহবধূর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে চাকু দিয়ে জবাই করে হত্যা করার পর ঘরের মেঝেতে মরদেহ ফেলে রাখেন। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে মৃতদেহ উদ্ধার করে তা ময়না তদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠান। পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই গৃহবধূকে দূর্বৃত্তরা জবাই করে হত্যা করেছে বলে প্রথমে পিতা-পুত্র মিলে অভিযোগ তোলেন। তাদের এমন কথায় হত্যাকান্ডে ক্লু খোঁজতে মাঠে নামেন সিআইডি ও ডিবিসহ পুলিশের একাধিক টিম।
তবে হত্যাকান্ডের পর থেকেই প্রতিবেশীদের অভিযোগ ছিল, নিরপরাধ লোকজনদের ফাঁসাতে বাবা ও ছেলে মিলে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই তারা গৃহবধূর স্বামী তোজাম হোসেন সরকার এবং ছেলে শিহাবকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ করেছিল প্রশাসনের নিকট। সেই সুবাদেই হত্যাকান্ডের মুল রহস্য সহজেই বের আসল।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদি শাহজাহান আলী বলেন, প্রথম থেকেই পুরো পরিবারের সন্দেহ ছিল তাদের উপর। বাবা যেমন চতুর তেমনি চতুর ছিল ছেলেটিও। জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতেই পিতা-পুত্র মিলে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। ওদের দু’জনের কঠিন শাস্তির দাবী করছি। এমন তথ্য নিশ্চিত করে কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, গত শনিবার সকালে এই ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকান্ডের মুল রহস্য জানতে তাদেরসহ বেশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসেন।
কেচু খোঁজতে যেমন সাপ বের হয়ে আসে, ঠিক তেমনি গৃহবধূ হত্যাকান্ডের ঘটনা এভাবেই পিতা-পুত্রের মুখ থেকে বের হয়ে আসে।হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ভাই শাহজাহান আলী বাদী হয়ে পিতা-পুত্রকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পিতা-পুত্র মিলে গৃহবধূকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন। রোববার বিকালে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেস্ট আদালতে হাজির করা হলে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক