প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:৫১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩০, ২০২২, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
লক্ষীরচরে বিবাদীর বাড়িতে বাদীদের হামলা-লুটপাট, লিখিত অভিযোগ হলেও নীরব পুলিশ

রবিউল হাসান লায়ন: জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চর গজারিয়ায় মামলার বিবাদীদের বাড়ি ঘরে পর্যায়ক্রমে হামলা-ভাংচুর ও বাড়িতে থাকা সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে বাদী পক্ষ। পরে পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেও পুলিশের কোন সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চর গজারিয় এলাকায় জাবেদ আলী গং ও আঙ্গুর গংদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং সংঘর্ষে জাবেদ আলীর স্ত্রী শিখা বেগম গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিখা বেগমকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর হতেই আসামীদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে সব কিছু লুট করে নিয়ে যায় বাদী পক্ষ। শুধুতাই নয় বিগত ২৪ মে আসামীদের আবাদী প্রায় ৩ বিঘা জমির পাকা ধানও কেটে নেয় বাদীপক্ষ। এ ঘটনায় পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। তবে লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
হত্যা মামলার ৭নং আসামি মো. মালেকের স্ত্রী শিল্পী বেগম জানান, যেদিন দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয় সেদিন আমার স্বামী বাড়িতে ছিলো না তবু তাকে আসামি করা হয়েছে এবং আসামি হওয়ার পর থেকে আমার স্বামী পলাতক রয়েছে। বর্তমানে আমার স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষ জাবেদ আলী গংরা আমাদের বাড়ি ঘর দফায় দফায় লুট করেছে।
সেসময় আমি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ আমার অভিযোগ নেয়নি। পরবর্তীতে বিবাদীরা আবার আমার জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায় সেসময় অভিযোগ নিলেও পুলিশের কোন সাড়া পাননি বলে জানান তিনি। শিল্পী বেগম আরও জানান, আমি এখন আমার এক কিশোরী মেয়েকে নিয়ে খুব ভয়ে দিনপাত করছি। আমরা কোন দোষ না করেও আজ দোষী, এখন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেও নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মালেকের আবাদী জমির ধান জাবেদ আলী গংরা কেটে সেগুলো ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা স্থানীয়রা বলার পরও তাদের থামাতে পারি নাই। মালেকের পরিবারের উপর যে সব ঘটনা ঘটছে এ সবকিছুই ন্যক্যারজনক। হত্যার বিচার আদালতে হবে এইজন্য একটা পরিবারের উপর বাদী পক্ষের জুলুম এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি ধানকাটার অভিযোগ পাওয়ার তিন দিন পর ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে অভিযোগকারীকে না পেয়ে ফিরে আসেন। বারুয়ামারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামানের কাছে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজন এস আইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবেদককে সেই তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.