প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৮:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৭, ২০২২, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
ক্ষুধা-অত্যাচার সইতে না পেরে লাঠিতে ভর করে থানায় বৃদ্ধা

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সন্তানদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন মা-বাবা। তেমনই সিরাজগঞ্জের ছেবাতন বেওয়ার ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহনে ভীষণ খুশি হয়ে ছিলেন। আর দুঃখ থাকবে না তার। প্রায় ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যায়। সেই থেকে ছেলের সংসারেই আছেন তিনি। কিন্তু শেষ বয়সে এসে কপালে জোটে না চিকিৎসা-ওষুধ পথ্য। যাকাতের কাপড়ে সারা বছর পার করেন ছেবাতন। এরপরেও খেতে চাইলে জোটে নানা কথা। তবুও উপায় না থাকায় ছেলের বউয়ের ইচ্ছেমতো খাবারে বেঁচে আছেন ছেবাতন বেওয়া (৭০)। কাজিপুরের সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ী গ্রামের ছেবাতন বেওয়া ক্ষুধার জ্বালা ও পুত্র-পুত্রবধুর অত্যাচার সইতে না পেরে (২৬ মে) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় লাঠিতে ভর করে কাজিপুর থানায় হাজির হন তিনি। কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত বৃদ্ধাকে দেখে নিজেই এগিয়ে বৃদ্ধার কাছে। বৃদ্ধাকে সাথে করে নিজের কক্ষে নিয়ে বসান। এ সময় ক্ষুধায় ছটফট করছিলেন বৃদ্ধা। তাৎক্ষনিক ওসি তাঁর জন্যে খাবার এনে দেন।
খাবার শেষে শোনেন কিভাবে ছেলে আর ছেলের বউয়ের অত্যাচার সহ্য করে ওই সংসারে পড়ে আছেন বৃদ্ধা। সব শুনে পুলিশের একটি টিমকে তাঁর বাড়িতে পাঠান। এর আগে ছেবাতনকে তিনি একটি শাড়ি ও নগদ অর্থ সহায়তা করেন। কাজিপুর থানার টিম বৃদ্ধাকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ছেলে আসাদুল ইসলাম এবং ছেলে বউ চুম্বলী খাতুনকে সতর্ক করে দেন। তাঁরা বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে আর কোনদিন খারাপ আচরণ ও ভাত কাপড়ের কষ্ট দেবেন না বলে পুলিশকে কথা দেন। কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, অসহায়দের সহযোগিতা করাই পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। ভিষণ দুঃখ ও কষ্ট পেয়েছি। শেষ বয়সেও ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে হয় বৃদ্ধা মাকে। এই কথা শুনামাত্র বৃদ্ধা মাকে সামান্য সহায়তা করেছি। সেই সাথে ছেলের সংসারে যাতে তিনি আর কষ্ট না পান সে বিষয়ে তাঁর ছেলে ও ছেলের বউকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.