প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৮:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২২, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
শ্রমিকের মজুরী নাগালের বাইরে বগুড়ার শেরপুরে ঝড় বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি

এমএ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বৈশাখ মাসের শুরুতেই কয়েকদিনের ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে ধানগাছ হেলে পড়ায় বগুড়ার শেরপুরে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে শ্রমিকের মজুরী দ্বিগুন বেরে যাওয়ায় গাড়হস্তরা লাভবান হওয়া নিয়ে শংকায় পড়েছেন। মাঠে মাঠে কাঁচা, আধাপাকা ও পাকাধান নিয়ে উৎকন্ঠায় আতঙ্কে আছে কৃষকেরা। অনেক এলাকায় বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে মাটিতে শুইয়ে পড়েছে ধানসহ গাছ। গাড়ীদহ, কুসুম্বী, খামারকান্দি, খানপুর, সুঘাট, বিশালপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কালবৈশাখীর ঝড়-বুষ্টিতে ধান পরিপুষ্ট হয়ে পাকার আগেই মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের স্বপ্ন যেন অনেকাংশেই ম্লান হতে বসেছে। বাধ্য হয়েই কাটতে হচ্ছে আধাপাকা ধান। সময়ের আগে ধান কাটার ফলে স্বাভাবিকভাবে ফলন কম হবে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠে ধান কাটা শ্রমিকেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৭০০হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ২০হাজার ৩শ'৮৫ হেক্টর। তবে বোরো মৌসুমের শেষ প্রান্তিকের টানা বর্ষণে জমির পাকা, আধাপাকা ধান গাছ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ঝড়ো বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় ধান গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে। ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকে আবার তড়িঘড়ি করে জমির কাঁচা-পাকা ধান কাটতে শুরু করেছে। এতে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর ধানী জমি ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার বাংড়া গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম ও শালফা গ্রামের জেকের আলী, শাহাদত হোসেন জানান, এ এলাকার বেশির ভাগ জমিতে আগাম জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। ধান কাটতে এখনো ১০-১৫ দিন বাকি। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে বহু জায়গায়। এতে ফলন বিপর্যয়সহ প্রতি বিঘায় প্রায় চার-পাঁচ মণ ধান কম হবে বলে তাদের ধারণা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, ঝড়ো বাতাসের কারণে কিছু পরিমান জমিতে বোরো ধান হেলে পড়েছে। তবে এত আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। আগাম সতর্কতা হিসেবে যেসব জমির ফসল শতকরা ৮০ ভাগ পেকে গেছে, সেগুলো কেটে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এখন বোরো ধান পাকা ও শক্ত অবস্থায় আছে। সে কারণে গড়পড়তায় স্বাভাবিক ঝড় বৃষ্টিতে ফলনে তেমন হেরফের হবেনা।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.