হোম » সারাদেশ » উল্লাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার নাজুক অবস্থা

উল্লাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার নাজুক অবস্থা

রায়হান আলীঃ যথাযথ তদারকি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মে উল্লাপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সকাল সাড়ে নয়টায় শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত হবার কথা থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষক স্কুলে সময়মত আসেন না। কোন কোন স্কুলে ২/১ জন শিক্ষক উপস্থিত হলেও বিশেষতঃ নারী শিক্ষকদেরকে স্কুলের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের দ্বারা চুলে উকুন বেছে নিতে দেখা যায়। কোথাও শিক্ষিকারা ছাত্রীদের দিয়ে চুলের বেনি বাঁধেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না থাকায় হৈ হুল্লোর করে শিশু শিক্ষার্থীরা। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেন দুথদিন ধরে আকষ্মিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থার এসব চিত্র তার চোখে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেন শনিবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানান, তিনি উল্লাপাড়ায় কয়েকদিন আগে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। গত ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ও ৯ এপ্রিল শনিবার তিনি উপজেলার মগড়া চড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দবিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে নয়টায় কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একজন শিক্ষককেও স্কুলে উপস্থিত পাননি তিনি। বেলা ১০টা পর্যন্ত অধিকাংশ স্কুলে বেশির ভাগ শিক্ষক আসেন না। রানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান স্কুলের বারান্দায় এক শিক্ষিকার চুলের বেনি বেধে দিচ্ছেন অন্য একজন মহিলা। অন্য একটি স্কুলে এক শিক্ষিকাকে শিক্ষার্থীদের দ্বারা মাথার উকুন বেছে নিতে দেখেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জল হোসেন আরো জানান, তিনি স্কুলে প্রবেশ করার পর বারান্দায় বসা উল্লিখিত শিক্ষকগণ দ্রুত তাদের অফিস কক্ষে ঢুকে পড়েন। দবিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কোন শিক্ষক না থাকায় ইউএনও শ্রেণি কক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের হৈ চৈ থামান এবং শিক্ষকরা না আসা পর্যন্ত পাঠদান করেন। তিনি বলেন, যেসব স্কুলে অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে উপজেলার পূর্বদেলুয়া এলাকার লোক অভিযোগ করেন পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কোনদিন সময়মত স্কুলে আসেন না। বেলা ১০ টার পড়ে ২ একজন স্কুলে এলেও পাশ্ববর্তী নদী থেকে মাছ কিনে স্কুলের বারান্দায় বসে ছাত্রীদের নিয়ে সেসব মাছ কাটেন। এমন দৃশ্য অনেকদিন দেখেছেন অভিভাবক বৃন্দ। এলাকাবাসী শিক্ষিকাদের মাছ কাটার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার দিয়েছেন।

উজ্জল হোসেন বলেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ এখানে স্কুলগুলো সেভাবে তদারকি করা হয় না। শিক্ষকদের মধ্যেও রয়েছে দায়িত্বহীনতা ও আন্তরিকতার অভাব। যেকোন মূল্যে সরকারের শিক্ষার মান উন্নয়নের সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তিনি এখন থেকে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শনে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দবিরগঞ্জ এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, নতুন ইউএনও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে তারা খুশি। আর এই উদ্যোগে স্কুলের শিক্ষকগণ দায়িত্বশীল হবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আল মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!