হোম » সারাদেশ » নবাবগঞ্জে  সরকারি ঘর চান অন্ধ হাফেজ হাফিজুল ইসলাম 

নবাবগঞ্জে  সরকারি ঘর চান অন্ধ হাফেজ হাফিজুল ইসলাম 

মাহফুজুর রহমান,   নবাবগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের  নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদ পুর ইউনিয়ন ইউনিয়নের  মোগরপাড়া গ্রামের জন্ম অন্ধ হাফেজ হাফিজুল ইসলাম তিনি জন্মের পর থেকেই কখনও  পৃথিবীর আলো দেখেনি। তার বয়স যখন  ১০ বছর তখন তার বাবা মা  মারা যান। তখন  থেকেই তিনি অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন হেফজ খানা থেকে ৮ থেকে ১০ বছর ধরে  তিনি বিভিন্ন  উস্তাদের কাছ থেকে  শুনে শুনে কোরান শরিফ মুখস্ত করেছেন  । বর্তমানে তিনি স্ত্রী পুত্র সহ  ৭ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন। কিন্তু  ৫ ছেলেমেয়ে হলেও তাদের থাকার ঘর একটি। তাই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতে হয় সেই একটি ঘরেই। আর এজন্যই তিনি একটা ঘর উপহার চান সরকারের কাছে।

হাফিজুল ইসলাম উপজেলার মাহামুদপুর ইউনিয়নের মোগড়পাড়া  গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হক ছেলে। সে নিজ গ্রামেই একটি ঘরে স্ত্রী ও ৫ ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসবাস করেন। তবে তিনি অন্ধ হলেও চলাফেরা করেন ইশারায় তেমন সমস্যা হয় না তার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে একাই পড়তে পরেন তিনি এছাড়াও গোসল সহ খাওয়া-দাওয়া একাই করতে পারেন।

হাফিজুল ইসলাম জানান, একমাত্র সরকারের দেওয়া প্রতিবন্ধি কার্ডের টাকা প্রতি তিন মাসে পান ২ হাজার ২শ ৫০ টাকা, যা দিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ ঠিক মত  বহন করা তো দুরের কথা বরং সংসারের খরচ  চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে , তাই  প্রায় সময়ই মানুষের  কাছে সহযোগিতা নিয়ে চলতে হয় তাকে । এর মধ্যে আবার বসতঘরটিও ভেঙে রয়েছে বিগত কয়েক বছর ধরে। টাকার জন্য ঘরটি ঠিকও করতে পারছেন না তিনি। তাই সরকারের কাছে দাবি নতুন একটি ঘর পেলে বাকি জীবন টুকু সুন্দর ভাবে জীবন যাপন  করতে পারবেন বলে মনে  করছেন তিনি।

হাফিজুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম  জানান, আমার পরিবারের ৫ জন ছেলে মেয়ে  সহ সাত জন পরিবারের সদস্য।   ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটি ঘরে থাকতে কষ্ট হয় তাদের, সরকার যদি তাদের একটি ঘর উপহার দিতেন তাহলে সেখানেই তাদের মাথা গুজার ঠাঁই হতো তাদের।

তবে হাফিজুল ইসলাম অন্ধ হলেও ভিক্ষা করতে চান  না। যদি ভিক্ষা করতেন তিনি তাহলে সন্তানের উপর তার প্রভাব পরত। তাই তিনি জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করছি। যাতে তার স্থায়ীভাবে একটা কিছু করে দেয়া হয়।সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ ০১৭২৩৭৪৩৯৩৪ বিকাশ,রকেট, নগদ ডাচ্ বাংলা ও উপায়।

এ বিষয়ে ৮ নং মাহামুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান মোঃ সালাউদ্দিন মাসুম বলেন, সরকারি ঘর বরাদ্দের সময়ে হাফিজুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না,তবে নতুন করে ঘর বরাদ্দ এলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমেই তাকে একটা ঘর দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!