প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:৫১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১, ২০২২, ৭:০২ অপরাহ্ণ

দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি: দাগনভূঞায় সিরাজ উদ্দিন দুলালের প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা বৃহস্পতিবার ৩১ শে মার্চ বিকালে দাগনভূঞা বাজারে বাংলা হোটেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী, ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের সভাপতি ও দাগনভুইয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কায়েস রিপন,বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরীয়ত উল্যাহ ভুইয়া ও আমান উল্যাহপুর গ্রামের দরিদ্র বাসিন্দা, আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ভুক্তভোগী,দাগনভুইয়া বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী মরহুম ইয়াসিন সওদাগরের মেঝ ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী শাহাজাহান শারুর প্রতিনিধিরা উউপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্যাক্তিগন দুলালের প্রতারনার নানা দিক তুলে ধরেন।
প্রথমেই মামলাবাজ সিরাজ উদ্দিন দুলাল সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী, ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী সভাপতি, আবুল কায়েস রিপন সাংবাদিকদের জানান,
২০১৭ সালে একটি কলেজ করবে বলে দাগনভুইয়ার কিছু বিশিষ্ট ব্যাক্তি বর্গের সাথে আলোচনা করলে তখন ছলনা করে কোন না কোন ভাবে আমাকে বুঝিয়ে বিনা টাকায় ওয়ারর্কিং পার্টনার হিসাবে যোগ দেয় দুলাল এবং আমাকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, কুমিল্লা বোর্ড এ দুলাল গং এর জানা শুনা আছে। সে কলেজের সব ধরনের অনুমোদন এনে দিতে পারবে। এ কথা বলে আমার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
আমাকে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইলিং করার জন্য আমার অগোচরে একটি ভুয়া দলিল তৈরী করে যাতে আমার কোন স্বাক্ষর নেই। এবং অল্প শিক্ষিত দুলাল জ্বাল দলিল তৈরী করতে গিয়ে, জমি দানের সন উল্লেখ করেছে ২০১২ সাল। অথচ তখন কলেজ করার কথা কেউ চিন্তাও করেনি।
উল্লেখ যে, ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজটি কুমিল্লা বোর্ড ভাড়াটিয়া ঘরে সাময়িক পাঠদানের অনুমোদন দিয়েছে। বোর্ড কলেজটি সাময়িক পাঠদানের অনুমোদনের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য রিপনকে সভাপতি করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি করে দিয়েছে যেখানে দুলাল গংদের নাম নেই।
কলেজের প্রথম বছরেই ৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ পাশ করায় কলেজটি সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। এতে প্রতারক ও মামলাবাজ দুলাল গং কলেজ বন্ধ ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে সরিয়ে কলেজ দখলের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা সফল না হওয়ায়, কলেজ সভাপতির বিরুদ্ধে গত ১৩/ ৩/২০২২ ইং তারিখে কোর্টে ভুয়া এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
ইতিপূর্বে, কলেজের সভাপতি আবুল কায়েস রিপন যখন জানতে পারে দুলাল কলেজের নামে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজী করছে এবং কলেজের পরিচালক শরিয়ত উল্যাহ ও আবুল কালাম সাহেব সহ অনেকের সাথে প্রতারণা ও হয়রানিমূলক মামলা করছে তখন কলেজের সুনাম রক্ষার্থে অধিকাংশ পরিচালকের সম্মতিতে রেজুলেশনের মাধ্যমে দুলালকে বহিষ্কার করে।
গত ১৫ /১২/২০২১ ইং তারিখে, দুলাল গং সাপ্তাহিক বৈকালীতে সম্পাদকের অজান্তে একটি ভিত্তিহীন ফরমায়েশি রিপোর্ট করায়। পরবর্তীতে সে পত্রিকা পরবর্তী সংখ্যায় প্রতিবাদ ছাপায়। দুলাল গং মনে করেছিল ভর্তির আগে এ সকল চক্রান্ত করলে কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে। মোঃ শাহজাহান শারু, দাগনভুইয়া বাজারের ব্যবসায়ী। সরকারি জায়গা দুলালের নিজের বলে শারুর কাছ থেকে ২,০০,০০০/- অগ্রিম নিয়েছে। কিন্তু এখন তাকে টাকা ফেরত দিচ্ছেনা।
আবুল কালাম ও শরীয়ত উল্যাহ ভুইয়া এই দুই জনই দাগনভুইয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ছলচাতুরী করে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাওলাত নিয়ে এখন আর দিচ্ছে না। উল্টো তাদের নামে ভুয়া মামলা করেছে। যে মামলা গুলো আদালতে ভুয়া প্রমানিত হয়েছে। টাকা উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী শরিয়ত উল্ল্যাহ ফেনীর মাননীয় আমলী আদালতে সিরাজ উদ্দিন দুলালের বিরুদ্ধে একটি মামলা আনয়ন করেন। যাহার নং ৬৭/২০২১ যাহা ইতিমধ্যে স্থানীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।
আনোয়ারা বেগম নামের, আমান উল্যাপুরের বাসিন্দা যার আম্মা জৈতুনের নেসা মেয়েকে ২.৫০ শতক জায়গা দান করেছেন কিন্তু দুলাল সে জমি জাল দলিল করে দখল করে ভোগ করছে। সে ভুয়া দলিলটি আদালতে জাল বলে প্রমানিত হওয়ার পরও দরিদ্র আনোয়ারা বেগম দুলালের হুমকির কারনে দখলে যেতে পারছেনা। উল্লেখ যে আনোয়ারা বেগমের মাতা জৈতুনের নেসা মারা যান ১/১২/ ১৯৯২ সালে কিন্তু দুলাল ভুয়া দলিল তৈরী করতে গিয়ে বিক্রেতার স্বাক্ষরে তারিখ উল্লেখ করে ৩০/০১/১৯৯৪ সাল। যা আদালতে ভুয়া প্রমানিত হয়। সাংবাদিকের কাছে সিরাজ উদ্দিন দুলালের প্রতারণার ভিবিন্ন ডকুমেন্ট ভুক্তভোগীরা উপস্থাপন করেন।
ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের সভাপতি আবুল কায়েস রিপন সাংবাদিক সম্মলনে বলেন,দুলাল কলেজ নিয়ে যে প্রতারনা করেছে তা নিয়ে শিঘ্রই ফেনীর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করবেন।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে সংবাদ সম্মেলনটি পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভায় রুপ নেয়।