
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সামছুল আলম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় মোটরসাইকেল ফেলে দৌঁড় দিয়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান তিনি। সোমবার (২৮শে মার্চ ) দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার বগুড়া পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের গণ্ডগ্রাম বুড়িতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার আলম গণ্ডগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবুল হোসেন। তিনি ওয়ার্ড আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া সদরের লতিফপুর কলোনী এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আ.লীগ নেতা আলমকে হত্যা চেষ্টা চালান। ফজলুল হকের সঙ্গেই আলমের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। আ.লীগ নেতা আলম জানান, গণ্ডগ্রাম বুড়িতলা এলাকায় ক্রয় সূত্রে ১৯ শতক জমি আছে তার। প্রায় আট বছর ধরে জায়গাটি ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। কিন্তু মাঝে ২০১৭ সালের দিকে ফজলুল হক নামে একজন অবৈধভাবে ওই জায়গার মালিকানা দাবি করেন। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন আছে।
তিনি আরও জানান, জমিতে বেলজিয়াম গাছের চারা রোপণ করা ছিল। সোমবার দুপুরে ৮-১০টি মোটরসাইকেলযোগে ফজলুল হক তার ছেলে তরিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে আসেন। এবং তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহিনীকে গাছ উপড়ে ফেলতে আদেশ দেন। এ সময় জমি থেকে প্রায় ৫০টি গাছ উপড়ে ফেলে সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে যান তিনি। এবং মোটরসাইকেল থেকে নামার আগেই কয়েকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসেন। পরে প্রাণ বাঁচাতে মোটরসাইকেল ফেলে দৌঁড় দেন তিনি। হামলাকারীরাও তার পেছনে ধাওয়া করেন। পরে স্থানীয়রা একত্র হয়ে এগিয়ে এলে মোটরসাইকেল নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশও আসে।
স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলের একটি বহর এলাকার ভিতর প্রবেশ করে আলমের জমিতে যায়। জমি থেকে তারা গাছ উপড়ে ফেলে তারা। ওই সময় আলম সেখানে উপস্থিত হলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড় দিয়ে পাশের গণ্ডগ্রাম বুড়িতলার পাশে হিন্দুপাড়ায় প্রবেশ করেন তিনি। খবর পেয়ে স্থানীয়রা একত্র হয়ে আলমকে উদ্ধার করেন। আ.লীগ নেতা আলম জানান, হামলায় ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে। কিছুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন ধরণের হুমকির শিকার হচ্ছিলেন তিনি। ফজলুল হক অবৈধভাবে জমি দখল নিতে জোর তৎপনতা চালাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।
অভিযুক্ত ফজলুল হক জানান, আলমের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা আছে। তবে আলমকে হত্যা চেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জমি দেখতে গিয়েছিলেন। এসময় আলমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। আর জমি থেকে গাছ উপড়ে ফেলার কোনো ঘটনায় ঘটেনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা শাজাহানপুর কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) সৈকত হাসান জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক