
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যের ক্রেতাদের কার্ড তৈরি করতে প্রতিজনের কাছ থেকে ২শত করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ পৌর সভার ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছাঃ মিরা বেগমের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল থেকে এমন একটি ভিডিও সামাজিক ম্যাধমে ফেজবুকে ভাইরাল হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিরাজগঞ্জ পৌর সভা থেকে তালিকা তৈরি করে কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। এ লক্ষ্যে ১০,১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডে ২ হাজার ১শত জনের তালিকা তৈরি করেছে। আর এ তালিকা তৈরির দ্বায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলদের দেওয়া হয়। সেই সুযোগে ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়াডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছাঃ মিরা বেগম ২শত করে টাকা প্রতিজনের কাছ থেকে উত্তোলন করেছেন। ভুক্তভুগীরা এই ২শ করে টাকা ফেরৎ ও কাউন্সিলর মিরা বেগমের শাস্তির দাবী জানান।
১২নং ওয়ার্ডের ভুক্তভুগী হাওয়া বেগম, জোস্না বেগম সহ অনেকে জানান, ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছাঃ মিরা বেগম আমাদের কাছ থেকে ২০০ শত করে টাকা নিয়েছে। আমরা পরে জানতে পারি সরকার আমাদের এই কার্ড বিনামূল্যে দিয়েছে। সে আমাদের এলাকার কাউন্সিলর তিনি টাকা চেয়েছেন আমরা দিয়ে দিয়েছি।
এবিষয়ে জানতে ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছাঃ মিরা বেগম কে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মহিলাদের দিয়ে এমন ভিডিও করে ফেজবুকে ছরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার মান-সম্মান ক্ষুণ করার জন্য এমন কথা বলানা হচ্ছে। এটা অপপ্রচার করছে। সিরাজগঞ্জ পৌর সভার মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্ত জানান, টিসিবির পণ্য কেনার ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির জন্য দরিদ্র পরিবারের কাছে থেকে টাকা টাকা নেওয়া অন্যায়। গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও টিসিবির পণ্য বিক্রি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাশুকাতে রাব্বি জানান, টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য ক্রেতার তালিকা তৈরিতে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লখ্য, সামজিক যোগাযোগ ম্যাধমে ভাইরাল হওয়া স্টাটার্স লেখা ছিলো- ১০,১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডে ২১শ কার্ড বরাদ্ব দিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার। এই কাড বিনামূল্যেই দিতে বলেছেন। সে কেন টাকার বিনিময় কার্ড প্রদান করছে, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ এর সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। শুধু তাই নয় সে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভবতী ভাতার কার্ড জন্য ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত একজনের কাছ থেকে নিয়েছে। অনেকে এখনও কার্ড পাইনি। এ গর্ভবতী ভাতা বিনামূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা, কিন্তু আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত দেশটাকে উন্নয়ন করার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু কিছু দুষ্ট মহিলা কমিশনার এগুলো আপনার সেই আইন ভঙ্গ করে তার নিজের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য কাজ করছে। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীর কাছে তার সম্মান নষ্ট হচ্ছে। তাই অনুরোধ এর জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য দাবি জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক