প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২২, ২০২২, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০ বছর টেকনিশিয়ান সংকটে এক্সরে মেশিন বন্ধ

দাগনভূঞা ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক্সরে টেকনিশিয়ান অভাবে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত বন্ধ রয়েছে এক্সরে মেশিন। গরীব অসহায় ও আগত রোগীগন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বছরের পর বছর। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব আয় থেকে।
জানা যায়, গত ২০১০ সালে যোগদানকৃত সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফয়জুল বারির দায়িত্বপালন কালীন সময় থেকে টেকনিশিয়ান সংকট। পরবর্তীতে স্বল্পকালীন সময়ে লোকবল দিয়ে পরিচালনার পর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে এক্সরে মেশিন। অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন ও ফ্লিম ম্যাচিং করা অবস্থায় রয়েছে মেশিনটি। প্রতিদিন শত শত রোগী বিভিন্ন রোগে এক্সরে করা অনেকেরই বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। রোগীরা প্রায় ১৮ টি প্যাথলজি পরিক্ষা, ইসিজি, কালার আলট্রাসনোগ্রাফি, কোভিড পরিক্ষাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি মূল্য। হাসপাতালের তথ্য মতে চলতি বছর জানুয়ারিতে শুধুমাত্র প্যাথলজি পরিক্ষায় ৭০ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬১ হাজার টাকা রাজস্ব আয় জমা হয়েছে।
এক্ষেত্রে এক্সরে পরিক্ষা করা সম্ভব হলে এ সংখ্যা আরো কয়েকগুন বৃদ্ধি পেতো। প্যাথলজি বিভাগ থেকে জানানো হয় বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার পাশাপাশি এক্সরে পরিক্ষা উল্লেখ থাকে প্রায় ২০/২৫ জন রোগীর। এক্সরে করার জন্য সরকারি মূল্য ১৫০ টাকা কিন্ত বাহিরে করাতে লাগে ৪৫০ টাকা। অনেক গরীব রোগীর পক্ষে এ পরিক্ষা করানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এক্সরে জনপ্রতি ১৫০ টাকা হলে দৈনিক ২০ জনে এ পরিক্ষার মাসিক আয় ২৬ দিনে প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। দীর্ঘ ১০ বছর একজন টেকনিশিয়ানের অভাবে দূর্ভোগের যেমন শেষ নেই রোগীদের তেমনি সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে।
শ্বাসকষ্টে ভূক্তভোগী অসহায় আবদুল মতিন জানান, বেশীরভাগই পরিক্ষা নিরিক্ষা সরকারি হাসপাতালে করিয়েছি কিন্ত এক্সরে করতে বাহিরে যেতে হবে। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। টাকাও লাগে বেশী। দাগনভূঞা আয়েশা জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালের এমডি আবু নাছের তুহিন জানান, সরকারি হাসপাতালে এক্সরে টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রতি সপ্তাহ প্রায় শতাধিক রোগী এক্সরে করাতে আসেন। বেসরকারি হিসেব মতে ডিজিটাল এক্সরে মূল্য ৪৫০ টাকা।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সামছুল আলম সুমন বলেন, বেশীরভাগই পরিক্ষা নিরিক্ষার সুযোগ রয়েছে অত্র হাসপাতালে। শুধুমাত্র টেকনিশিয়ানের অভাবে এক্সরে রুম বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, কোভিড পরিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগীদের পরিক্ষা নিরিক্ষায় এক্সরে গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বর্তন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। দীর্ঘবছর টেকনিশিয়ানের অভাবে অত্যাধুনিক এক্সরে মেশিনটি অকেজো হওয়ার পথে। রোগীদের কষ্ট লাগবে টেকনিশিয়ান নিয়োগে ফেনী সিভিল সার্জন মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.