
শাহজাহান সিরাজ: গাইবান্ধায় বিধবা, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ আত্নসাত ও ব্লাকমেইল করে টাকা নেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে অসহায় এক চা দোকানী নারী। গত শনিবার বিকেলে প্রেসক্লাব গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন ভুক্তভোগীর ভাগিনা লিখন মিয়া। ভুক্তভোগী ঐ নারীর নাম মুক্তি বেগম।
তিনি সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের থানসিংহপুর গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই ভুক্তভোগী নারী ক্ষুদ্র ও অসহায় একজন চা দোকানী। সেই সুবাদে সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাসলিমা সুলতানা স্মৃতির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের নুরু মিয়া নামে এক সক্রিয় সদস্য তার দোকানে প্রায়ই চা খেতে আসতেন।
নুরু মিয়াসহ তার সহযোগী শিল্পী বেগম, রহিমা বেগম, ফিরোজা বেগম, ছুরুতন বেগমসহ কয়েকজন প্রতারক বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকে টাকা নিয়ে আত্মগোপনে যান নুরু মিয়া। পরে ভাইস চেয়ারম্যান ও তার স্বামী আলামিন কৌশলে তাদের বাসায় নিয়ে যান ভুক্তভোগী ঐ নারীকে এবং টাকা নিয়েছে মর্মে জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির একটি ভিডিও ধারণ করে। এক পর্যায়ে ২০ হাজার টাকা দাবী করে ভাইস চেয়ারম্যান। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায় মুক্তি বেগম। বাকি টাকা না দিলে স্বীকারোক্তির ভিডিও ভাইরাল করে দেয়ার কথা বলে ব্লাকমেইল করতে থাকে ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার স্বামী আলামিন।
এঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, জোরপুর্বক স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি ভিডিও করে মুক্তি বেগমের উপরে মিথ্যাভাবে দায় চাপানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অসহায় ঐ পরিবারটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ