
এম,এ, রাশেদ বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে রাইস মিলের ‘তার’ চুরির অপবাদ দিয়ে চার কিশোর শ্রমিকের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইয়াকুব আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মজুরির বকেয়া টাকা চাওয়ায় তাদেরকে একটি মিলঘরের মধ্যে প্রায় ছয় ঘন্টা আটকে রেখে এই অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ওইসব কিশোর শ্রমিকদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। নির্যাতনের শিকার হওয়া চার শ্রমিক ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হলো না।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর জামতলা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে ইয়াকুব আলীর পাশ^বর্তী জোয়ানপুর গ্রামে একটি রাইস মিল রয়েছে। সেখানে ওইসব কিশোর শ্রমিকরা কাজ করেন। কিন্তু বিগত সাতদিনের মজুরি বকেয়া রাখা হয়। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে ওইসব শ্রমিক মজুরির বকেয়া টাকা চাওয়ায় প্রভাবশালী মিল মালিক ইয়াকুব আলী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানালে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
এসময় কিশোর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিলের ‘তার’ চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। এমনকি এই চুরির অপবাদে ওইদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদেরকে মিলঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। সেইসঙ্গে ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে মহিপুর বাড়ইপাড়ার রাসেলসহ আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি ওইসব কিশোর শ্রমিকদের ওপর শারিরীক নির্যাতন চালানো শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদের নামে এভাবে প্রায় ছয় ঘন্টা মিলঘরে আটকে রেখে তাদের মারপিট করা হয়। এতে তাদের শরীর রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে কিশোর শ্রমিকরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান বলেন, মারপিটের শিকার চার কিশোরের হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শঙ্কার কোনো কারণ নেই। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে ঘটনার পর থেকেই গাঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। তাই ইয়াকুব আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামজীবন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনায় জড়িতরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।