প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১০:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৩১, ২০২২, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
ভূমি জটিলতায় দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বিলম্বে কোটি টাকার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি

মোঃআবদুল মুনাফ পিন্টুঃ ফেনীর দাগনভূঞায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ১০ বছরেও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন জটিলতায় ফায়ার সার্ভিস নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে দাগনভূঞাবাসীর। ফেনীর পাঁচ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও শুধু নেই দাগনভূঞা উপজেলায়।
ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি জানান, দাগনভূঞায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ ভূমি জটিলতার অনেকদিন আটকে ছিল। ভূমি জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন ভূমি জটিলতা নিরসন হলেও প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে আটকে আছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ। নতুন প্রকল্পে দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। করোনাজনিত কারণে প্রকল্পের এখনো অনুমোদন হয়নি শীঘ্রই অনুমোদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে দাগনভূঞায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল কুদ্দুস খান। অধিগ্রহণকৃত ৩৩ শতক ভূমির মূল্য ২২ লাখ ২১ হাজার ৫ টাকা। ভূমির মালিকরা মামলা দেয়ার কারণে ওখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় ভূমি সচিব, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক আবদুল কুদ্দুস খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব সভাপতি ইকবাল শাহিন ও ভূমি কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে
আসামি করে ২০২১ সালের ২৫ ফোরি উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি আরও জানান, দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জায়গার উচ্চ আদালতে মামলার কারণে নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে ওই জায়গা থেকে সরে নতুনভাবে জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে বাজার দর বৃদ্ধি হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে নতুন আইনে ফায়ার স্টেশনের জন্য পুকুরসহ ৮০ শতাংশ জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। এখন দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য পুকুরের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে।
গণপূর্ত গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব জানান, উচ্চ আদালতে ৫ বছর ধরে মামলা চলার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগামীতে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। দাগনভূঞা বাজার ব্যাবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কায়েস রিপন বলেন, গত ছয়মাসে ৫ টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগে প্রায় ২ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি সাধন হয়। এদিকে প্রায় ফুটপাত দোকানসহ ৪ হাজার দোকানি ব্যাবসা পরিচালনা করেন পৌর শহরে। ফেনী থেকে ফায়ার সার্ভিস দাগনভূঞায় বিলম্বে পৌছানোর কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বাড়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান।
দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন বলেন, দাগনভূঞায় প্রতি বছরই বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। তবে শীতকালে অগ্নিকান্ডের ঘটনা বেড়ে যায় তাই দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রয়োজন।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন, দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন দ্রুত নির্মাণের জন্য জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। ভূমি বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। গত বছর অনেক বাড়িঘর ও দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.