প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৩০, ২০২২, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
জামালপুরে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মৎসাধের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রবিউল হাসান লায়ন: জামালপুরের সদর উপজেলার ১নং কুটামনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক লক্ষী রাণী দে'র বিরুদ্ধে। সভাপতি মৃত্যুর ৫৪ দিন পর প্রধান শিক্ষক লক্ষী রাণী দে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ফেলেন। এব্যাপারে মঙ্গলবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. খালেদ মোশারফ মিলন।
এ অভিযোগ পত্রে কমিটির আরও চারজন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। অভিযোগ পত্রে বলা হয়, জেলার সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ১নং কুটামনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো.খালেদ মোশাররফ মিলন বিগত বছরের ২৪ অক্টোবর নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা আহবান করেন। সভায় প্রধান শিক্ষক লক্ষী রাণী দে'র কাছে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ও ব্যাংক হিসাব জানতে চান।
এসময় প্রধান শিক্ষক আয় ব্যায়ের হিসাব দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে সভার আহবান করা হলেও সেখানে প্রধান শিক্ষক হিসাব দেখাতে পারেননি। ২৩ জানুয়ারি রুপালি ব্যাংক জামালপুর শাখার ব্যাংক বিবরণী দেখান তিনি। বিবরণীতে দেখা যায়, গত বছরের ৪ নভেম্বর ব্যাংক হতে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু পূর্ববর্তী সভাপতি মো. আব্দুল বারেক ফকির গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক লক্ষীরাণী দে নতুন কমিটিকে বলেন, সভাপতি মো. আব্দুল বারেক ফকির মারা গেলে সহ-সভাপতি মোছা. মাহমুদা সুলতানাকে সভাপতি করে ব্যাংক অপারেটর পরিবর্তন করা হয়।
এদিকে প্রধান শিক্ষক এ কথা বললেও তিনি ব্যাংক অপারেটর পরিবর্তনের কোন রেজুলেশন দেখাতে পারেনি। এছাড়া তার ভাষায় ওই সভাপতি মোছা. মাহমুদা সুলতানা গত ১০ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক লক্ষী রাণী দে বলেন, আমি কোন স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করিনি। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বিগত দিনে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে টাকা গুলো ব্যয় করা হয়েছে।
এব্যাপারে নবগঠিত কমিটির সভাপতি খালেদ মোশাররফ মিলন জানান বলেন, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আমাকে কুটামনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তারপর আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে সে তালবাহানা শুরু করে। পরে জানতে পারি সে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে এক লাখ টাকা উত্তোলন করে।
তাই এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের সত্যতা জানতে ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.