প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৪:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২৯, ২০২২, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ভৈরবে এক বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৬৫ নারী-পুরুষের মৃত্যু

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ভৈরবে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে গত এক বছরে শিশুসহ ৬৫ জন নারী-পুরুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ভৈরব থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার ও বাজিতপুরের সরারচর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ট্রেনের ছাদে অনিরাপদ ভ্রমণ ও রেলপথ পারাপারে ২ জন শিশু, ১০ জন নারী ও ৫৩জন পুরুষ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস। ৬৫জন নারী ও পুরুষের মধ্যে বেশিরভাগই অজ্ঞাতনামা।
চলন্ত অবস্থায় ট্রেনে উঠা নামা, ট্রেনের ছাদে অনিরাপদ ভ্রমণ, দুই বগীর সংযোগ স্থলে বসা, ট্রেনের দরজার হাতলে ঝুলন্ত অবস্থায় যাতায়াত, অবৈধ রেলক্রসিং ও অসর্তকভাবে রেলপথ পাড়াপাড় করতে গিয়ে এসব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আবার অনেক সময় অপরাধীরা খুনের পর রেললাইনে লাশ ফেলে ট্রেন দুর্ঘটনা বলেও চালিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক যাত্রী নিরাপত্তায় কাজে ব্যস্ত থাকলেও কিছু কিছু যাত্রী ট্রেনের ছাদে, ইঞ্জিনে ও দরজার হাতলে ঝুলে প্রায় সময়ই অনিরাপদ ট্রেন ভ্রমণ করেন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষিদ্ধ হলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির ট্রেনযাত্রীরা ট্রেনে অনিরাপদ ভ্রমণ করছেন।
রেলপথে ছোট ছোট স্টেশন গুলোতে যাতায়তের জন্য বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনের সংখ্যা ও বগী কম থাকায় আসন সল্পতার কারণে ট্রেনযাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছার ক্ষেত্রেও অনেক সময় ঝুকিপুর্ণ ভ্রমণে বাধ্য হয়। যার ফলে এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
এছাড়াও রেল লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি, ইয়ারফোন ব্যবহার ও অন্যমনস্ক হয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়েও ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অনেক পথচারির প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত মাইক অ্যালাউন্স করে যাত্রীদের সাবধান করেছে।
অসাবধানবসত মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও আবার অনেক সময় অপরাধীরা তাদের কৌশল হিসেবে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া এবং হত্যার পরে রেল লাইনে ফেলে রেখে ট্রেনে কাটা বলে চালিয়ে দেয়। ফলে অনেক হত্যার ঘটনা গুলোও থানায় অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস জানান, ট্রেন যাত্রী ও সাধারণ মানুষের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার শিকার মানুষজনের মধ্যে বেশিরভাগই অজ্ঞাতনামা বলে জানান তিনি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.